আরিফ হোসেন, বরিশাল
এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ০২:৪০ পিএম
গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহ ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বরিশাল নগরীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ভোগান্তি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরম থেকে স্বস্তি পেতে চার্জার ফ্যানের দিকে ঝুঁকছেন সাধারণ মানুষ। এতে নগরীর ইলেকট্রনিক্স বাজারগুলোতে এ পণ্যের বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
সকাল থেকেই নগরীর কাটপট্টি রোড ও গীর্জ্জা মহল্লা এলাকার দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মানভেদে চার্জার ফ্যান ২ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
নগরীর জর্ডন রোড এলাকার বাসিন্দা কবির বলেন, “এই গরমে আর বিদ্যুতের যন্ত্রণায় জীবন অতিষ্ঠ। বাসায় বৃদ্ধ মা ও ছোট বাচ্চা আছে। বাধ্য হয়ে চার্জার ফ্যান কিনতে হয়েছে, কিন্তু দাম অনেক বেশি।”
বাংলা বাজার এলাকার কলেজছাত্রী মৌসুমী আক্তার বলেন, “গ্রামের চেয়েও শহরের অবস্থা খারাপ। সারাদিনে বিদ্যুৎ থাকে খুব অল্প সময়। তাই বাধ্য হয়ে চার্জার ফ্যান কিনতে হয়েছে।”
বিক্রেতারা জানান, গরম ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ফ্যানের চাহিদা হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। কাটপট্টি রোডের ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী রাকিব বলেন, “আগে দিনে ১০–১২টি ফ্যান বিক্রি হতো, এখন তা বেড়ে ৩০–৪০টিতে দাঁড়িয়েছে।”
তিনি আরও জানান, পাইকারি বাজারেও দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা পর্যায়ে বিক্রয়মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই চাপের মুখে পড়েছেন।
গীর্জ্জা মহল্লা এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ কম থাকায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অনেক সময় পর্যাপ্ত স্টক না থাকায় চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস জানান, এখনো ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বাজারে অভিযান শুরু হয়নি। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই অভিযান জোরদার করা হবে।
বরিশাল রূপাতলী গ্রিড স্টেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান পলাশ বলেন, “তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে লোডশেডিং বাড়ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।”
বর্তমান পরিস্থিতিতে গরম ও বিদ্যুৎ সংকট একসঙ্গে চরম ভোগান্তি তৈরি করেছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে নগরীর সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ও বাজারে।
এএন