শিমুল হাছান, ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর)
মে ৫, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মোজাম্মেল হক ‘ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (দিশা)’র মাঠকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ভুক্তভোগী সাজেদা বেগমের স্বামী তাজুল ইসলাম জানান, ঋণের কিস্তি পরিশোধ ও অতিরিক্ত লাভের আশ্বাসে মোজাম্মেল হক তার কাছ থেকে মোট ১ লাখ ৩৭ হাজার টাকা নেন। এর মধ্যে পূর্বের ঋণের ৯০ হাজার টাকার সাত কিস্তির বিপরীতে ৬৭ হাজার টাকা এবং পৃথকভাবে ধার হিসেবে আরও ৭০ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, নতুন করে ২ লাখ টাকার ঋণ পাওয়ার আশায় মাঠকর্মীর নির্দেশে বিকাশের মাধ্যমে ধাপে ধাপে টাকা পরিশোধ করা হয়। পরে তারা অফিসে গিয়ে জানতে পারেন, মোজাম্মেল হক প্রতারণা করে পালিয়ে গেছেন।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তাজুল ইসলাম ফরিদগঞ্জ থানায় শাখা ব্যবস্থাপক রতন মুর্হি ও অভিযুক্ত মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
শাখা ব্যবস্থাপক রতন মুর্হি বলেন, “গত ১০ এপ্রিল থেকে মোজাম্মেল হক অফিস থেকে পলাতক রয়েছে। ভুক্তভোগীরা বিকাশে যে টাকা জমা দিয়েছেন, তা অন্য সদস্যদের হিসাবে গেছে, কিন্তু তাদের হিসাবে জমা হয়নি। তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫ লাখ টাকার আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্তে আরও বাড়তে পারে।”
দিশার এরিয়া ম্যানেজার নিজামউদ্দিন ভূঁইয়া জানান, “মাঠকর্মীদের বিকাশের মাধ্যমে টাকা আদায়ের একটি নির্ধারিত লক্ষ্য ছিল। তবে মোজাম্মেল হক অফিস সহকারী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। তাকে খুঁজে পেতে পারলে পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে অভিযুক্ত মোজাম্মেল হকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। অফিস সূত্রে জানা গেছে, তার বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মাধনগর গ্রামে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফরিদগঞ্জ শাখায় কর্মরত ছিলেন।
ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, “ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এএন