ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
ফতুল্লায় পুলিশের বিশেষ অভিযান

দেশীয় অস্ত্রের ভাণ্ডারসহ দুর্ধর্ষ রনি গ্রেপ্তার

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

মে ৭, ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম

দেশীয় অস্ত্রের ভাণ্ডারসহ দুর্ধর্ষ রনি গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চল খ্যাত ফতুল্লায় এক ঝটিকা অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় মরণাস্ত্রসহ এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার ভোররাতে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন পশ্চিম দেওভোগের হাশেমবাগ এলাকায় এই রুদ্ধশ্বাস অভিযান পরিচালিত হয়। 

অভিযানে নেতৃত্ব দেয় জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল। বিকেলে জেলা পুলিশের কার্যালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী। গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম রনি (৪০), সে ফতুল্লার কাশিপুর এলাকার কালু মিয়ার সন্তান হিসেবে পরিচিত।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, পশ্চিম দেওভোগ এলাকার একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরকে অপরাধীরা অস্ত্রাগার হিসেবে ব্যবহার করছে। সেখানে আসন্ন কোনো বড় ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রের মজুদ গড়ে তোলা হয়েছে। 

এই সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ে এবং অপরাধীদের পাকড়াও করতে বৃহস্পতিবার ভোরে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল হাশেমবাগ এলাকায় অবস্থান নেয়। এলাকাটি ঘিরে ফেলার পর পুলিশ ওই পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে হানা দেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থল থেকেই রনিকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয় আইন, শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পরিত্যক্ত ওই ঘরটিতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ যা উদ্ধার করেছে, তা দেখে রীতিমতো হতবাক তদন্তকারী কর্মকর্তারা। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের তালিকায় রয়েছে ১৫টি সম্পূর্ণ স্টিলের তৈরি ধারালো তলোয়ার, যেগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তৈরি এবং ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। এছাড়াও ৪টি কাঠের বাটের বড় তলোয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাচীন ধাঁচের এই অস্ত্রগুলো সাধারণত বড় ধরনের মারামারিতে ব্যবহৃত হয়। 

উদ্ধার করা হয়েছে ১টি বিশেষায়িত চাকু যা অত্যন্ত ধারালো এবং মরণঘাতী। আরও পাওয়া গেছে ১টি চায়নিজ কুড়াল, স্টিলের তৈরি এই কুড়ালটি আধুনিক ঘরানার দেশীয় অস্ত্র হিসেবে পরিচিত। এছাড়া ১টি মজবুত স্টিলের পাইপ উদ্ধার করা হয় যা আক্রমণ বা মারধরের কাজে ব্যবহৃত হয়।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র দিয়ে ওই এলাকায় কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আধিপত্য বিস্তার বা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরিকল্পনা করছিল। উদ্ধারকৃত এই মরণাস্ত্রের ভাণ্ডার এখন ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত রনি কোনো সাধারণ ব্যক্তি নয়, বরং সে এলাকার তালিকাভুক্ত অপরাধীদের একজন। তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে মারামারি, চাঁদাবাজি এবং এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগে ফতুল্লা মডেল থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সে লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। এবারের অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়ায় এলাকায় জনমনে স্বস্তি ফিরেছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, গ্রেপ্তারকৃত রনি এবং এই অস্ত্র মজুদের সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজন পলাতক আসামির বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় অস্ত্র আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা নারায়ণগঞ্জের শান্তি, শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চল ও আবাসিক এলাকাগুলোতে অপরাধীদের কোনো স্থান নেই। রনিকে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে জেলা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এই চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতেও আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ফতুল্লার পশ্চিম দেওভোগ ও কাশিপুর এলাকায় দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক বাসিন্দা জানান, পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে রাতের আঁধারে বখাটে ও অপরাধীদের আনাগোনা থাকতো, যা নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ সবসময় আতঙ্কে থাকতো। পুলিশের এই তৎপরতা অপরাধীদের মনে ভীতির সঞ্চার করবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।

বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ এই অস্ত্রগুলোর উৎস এবং এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা গোষ্ঠীগত মদদ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অধিকতর তদন্ত শুরু করেছে।

জেএইচআর

Link copied!