আমার সংবাদ ডেস্ক
মে ১৬, ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে যশোরে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ব্যতিক্রমধর্মী নামের এক বিশাল ষাঁড়। প্রায় এক হাজার কেজি ওজনের ব্রাহমা জাতের গরুটির নাম রাখা হয়েছে ‘বিসিএস ক্যাডার’। অদ্ভুত এই নাম আর বিশাল আকৃতির কারণে প্রতিদিনই সেটি দেখতে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ।
যশোর সদর উপজেলার সীতারামপুর এলাকার খামারি মহিদুল জামান কাজল গরুটির মালিক। পেশায় তিনি সমবায় অধিদপ্তরের অডিট অফিসার। কয়েক বছর আগে অল্প পরিসরে গরু পালন শুরু করলেও বর্তমানে তার খামারে রয়েছে ৪২টি গবাদিপশু।
খামারি জানান, প্রায় ১০ মাস ধরে বিশেষ পরিচর্যায় বড় করা হয়েছে ‘বিসিএস ক্যাডার’কে। গরুটির দাম চাওয়া হচ্ছে ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার ভাষ্য, বিসিএস পরীক্ষার মতো কঠিন প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে যেমন একজন ক্যাডার তৈরি হয়, তেমনি এই গরুটিকেও দীর্ঘ সময় যত্নে লালন করতে হয়েছে বলেই এমন নামকরণ।
গরুটির পরিচর্যায় রাখা হয়েছে আলাদা ব্যবস্থা। প্রতিদিন দুইবার গোসল করানো হয়, সারাক্ষণ ফ্যান চালিয়ে রাখা হয় এবং মশা থেকে সুরক্ষায় ব্যবহার করা হয় কয়েল।
খামারে আরও রয়েছে বড় আকারের কয়েকটি গরু। এর মধ্যে ১ হাজার ১০০ কেজি ওজনের একটি হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের গরুর দাম ধরা হয়েছে ১১ লাখ টাকা। এছাড়া ৮৭৫ কেজি ওজনের একটি শাহিওয়াল জাতের গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে সাড়ে ৮ লাখ টাকা।
খামারি কাজল বলেন, গরুগুলোকে প্রাকৃতিক খাদ্যেই লালন করা হয়। খাদ্যতালিকায় থাকে ভুট্টা, গম, ছোলা, খৈল, কুঁড়া, সবুজ ঘাস ও বিচালি। প্রতিদিন গরুর পেছনে প্রায় ১২ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার যশোরে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার পশু। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত পশু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সিদ্দীকুর রহমান জানান, যশোরের গরুর চাহিদা বিশেষ করে চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনা অঞ্চলে বেশি। তিনি বলেন, খামারিদের উৎপাদন খরচ বেড়েছে, তাই দানাদার খাদ্যের পাশাপাশি বেশি সবুজ ঘাস ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
এএন