গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
মে ১৯, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় রাতের আঁধারে ফসলি জমি কেটে পুকুর খননের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় দুটি ভেকু (খননযন্ত্র) ফেলে পালিয়ে যায় সংশ্লিষ্টরা। পরে ঘটনাস্থল থেকে ভেকুর ব্যাটারি জব্দ করা হয়।
সোমবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজের নেতৃত্বে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের নারায়ণপুর হাড়িভাঙ্গা বিলে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের আঁধারে দুটি ভেকু দিয়ে ফসলি জমি কেটে পুকুর খনন করা হচ্ছিল। প্রশাসনের অভিযানের খবর টের পেয়ে ভেকু চালক ও সংশ্লিষ্টরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে কাদা মাটি পেরিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রশাসনের কর্মকর্তারা দুটি ভেকুর ব্যাটারি জব্দ করেন।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী মিলন মিয়া, পিআইও আমিনুর রশীদ, আনসার বাহিনীর সদস্যসহ ইউএনও ও এসিল্যান্ড কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।
ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ বলেন, “ফসলি জমি ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের অভিযান চলমান থাকবে। অবৈধভাবে পুকুর খননের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে উপজেলার চাঁচকৈড় এলাকার বাসিন্দা মো. আপেল সরকার ও রানা প্রামাণিক অভিযোগ করে বলেন, শুধু ব্যাটারি জব্দে সীমাবদ্ধ থাকলে অবৈধ মাটি ব্যবসা বন্ধ হবে না। উপজেলার ধারাবারিষা, মশিন্দা ও কুমারখালী এলাকায় ফসলি জমি কেটে পুকুর খনন করা হচ্ছে এবং সরকারি রাস্তা ব্যবহার করে মাটি বহনের কারণে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, “মোটা অঙ্কের জরিমানা, মামলা ও দৃশ্যমান কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হলে এসব কর্মকাণ্ড দমন করা সম্ভব। গত বছর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভেকু জব্দ, জরিমানা ও মামলার মতো কঠোর পদক্ষেপ দেখা গেলেও এবার তেমন দৃশ্যমান অভিযান নেই।”
স্থানীয়দের দাবি, অবৈধভাবে ফসলি জমি কেটে পুকুর খননের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কৃষিজমি ও সরকারি অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়বে।
এএন