গুইমারা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি
মে ২০, ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী “খাল পুনঃখনন কর্মসূচি-২০২৬” এর আওতায় খাগড়াছড়ির গুইমারায় তৈইমাতাই ও পিলাক খালের পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে উপজেলার বাইল্যাছড়ি জোড়াব্রিজ এলাকার তৈইমাতাই খাল এবং পরবর্তীতে জালিয়াপাড়াস্থ পিলাক খালের খনন কাজের উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
উদ্বোধন শেষে জালিয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে গুইমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিসকাতুন তামান্নার সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন- জেলা বিএনপির উপদেষ্টা জাকিয়া জিনাত বিথি, সাধারণ সম্পাদক এম এন আফছার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক মিন্টু, গুইমারা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক আইয়ুব আলী ডালিমসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, "শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের কৃষি উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন, যা একসময় আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই জনবান্ধব উদ্যোগকে আধুনিক পরিকল্পনার মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করেছেন।"
তিনি আরও বলেন, "খাল পুনঃখননের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত হবে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষা পাবে এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এতে স্থানীয় মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন ঘটার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।" এ সময় তিনি খাল দুটি সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয় জনগণের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর পরিচালিত ‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)’ প্রকল্পের আওতায় মোট ৯ দশমিক ১ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
এর মধ্যে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পিলাক খাল পুনঃখননে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪১৬ জন শ্রমিক এবং ৪ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ তৈইমাতাই খাল পুনঃখননে ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৫৭ জন শ্রমিক নিয়োজিত আছেন। স্থানীয় শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দিয়ে এই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং কর্মরত প্রতিটি শ্রমিক দৈনিক ৫০০ টাকা হারে মজুরি পাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর খালগুলো ভরাট হয়ে থাকায় বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতো না, যার ফলে জলাবদ্ধতায় ফসলি জমি ও বসতঘরের ব্যাপক ক্ষতি হতো। আবার শুকনো মৌসুমে সেচ সংকটের কারণে কৃষকেরা পর্যাপ্ত আবাদ করতে পারতেন না। এমন বাস্তবতায় খালের পুনঃখনন কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জেএইচআর