আ. হামিদ, মধুপুর (টাঙ্গাইল)
মে ২৪, ২০২৬, ০২:৪০ পিএম
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে সুশাসন ফিরিয়ে আনার দাবিতে এবং সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন ব্যাংকের গ্রাহকরা।
রোববার দুপুরে টাঙ্গাইলের মধুপুর শাখা ইসলামী ব্যাংকের সামনে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কে ইসলামী ব্যাংকের সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইসলামী ব্যাংক মধুপুর শাখার সাধারণ গ্রাহক, শেয়ারহোল্ডার এবং ইসলামী সচেতন গ্রাহকরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মধুপুরের শালিখা ফাজিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল আব্দুস কুদ্দুস, গোসাইবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান এবং গোপালপুর লাইট হাউজ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমান।
এসময় বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত বছরগুলোতে এস আলম গ্রুপ ও তাদের দোসররা সম্পূর্ণ গায়ের জোরে নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে ইসলামী ব্যাংকের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ চালিয়েছে। তারা ব্যাংকটিকে নিজেদের পকেটে পুরে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে। যার ফলে সাধারণ গ্রাহকদের আস্থার এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি আজ চরম সংকটের মুখে পড়েছে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ সুশাসন ধ্বংস করতে এবং নিজেদের লুটপাট আড়াল করতেই সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই নগ্ন হস্তক্ষেপের কারণে ব্যাংকিং খাতের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে অবিলম্বে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ সাধারণ গ্রাহক ও সৎ উদ্যোক্তাদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তারা।
ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নীতি এবং কর্মকর্তা নিয়োগ-পদোন্নতিতে সব ধরনের নগ্ন হস্তক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানান বক্তারা।
ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনতে বিগত দিনে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত ও সরিয়ে দেওয়া সৎ, দক্ষ এবং অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ওমর ফারুক খানকে অবিলম্বে স্বপদে পুনর্বহাল করার দাবি জানানো হয়।
সাধারণ মানুষের কষ্টের আমানত রক্ষা এবং ইসলামী ব্যাংকের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বর্তমান সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।
এসময় সাধারণ গ্রাহকেরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ইসলামী ব্যাংক এ দেশের কোটি মানুষের আবেগের জায়গা। কোনো লুটেরা গোষ্ঠীকে এই ব্যাংক ধ্বংস করতে দেওয়া হবে না।”
তারা আরও বলেন, অবিলম্বে ব্যাংকের ওপর থেকে সব ধরনের কালো হাত সরিয়ে নেওয়া না হলে এবং সুশাসন নিশ্চিত করা না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এএন