আমার সংবাদ ডেস্ক
মে ৩১, ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া বলেছেন, তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেননি। তার দাবি, গণমাধ্যমে তার বক্তব্যের পুরো অংশ প্রকাশ হয়নি এবং তিনি শুধুমাত্র উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ অর্থের বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন।
শনিবার (৩০ মে) এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে মো. মোস্তাক মিয়া অভিযোগ করেন যে, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা এবং দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন। বক্তব্যটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসকের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
ফোনালাপে মোস্তাক মিয়া বলেন, তিনি রাজস্ব খাতের অর্থের কথা বলেননি; বরং জেলা পরিষদের বিভিন্ন খাত থেকে উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হাসনাত আবদুল্লাহর এলাকার জন্য প্রায় ১০ কোটি টাকা এবং অন্য একটি উপজেলার জন্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহ প্রশাসকের বক্তব্যের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে মোস্তাক মিয়া বলেন, তিনি কোথাও বলেননি যে হাসনাত আবদুল্লাহ টাকা খেয়েছেন বা আত্মসাৎ করেছেন। তিনি দাবি করেন, গণমাধ্যমে তার বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ অংশ প্রকাশ না হওয়ায় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।
প্রশাসক আরও বলেন, সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। উন্নয়ন কাজের জন্যই ওই অর্থ দেওয়া হয়েছে এবং সেটিই তিনি বোঝাতে চেয়েছেন।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় এক গণমাধ্যমকে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক যে অর্থের কথা বলেছেন, সেটি সংশ্লিষ্ট উপজেলার উন্নয়ন বাজেটের বরাদ্দ। ওই অর্থ তাকে ব্যক্তিগতভাবে দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, একই দিন দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মো. মোস্তাক মিয়া অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, হাসনাত আবদুল্লাহও ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন। পরবর্তীতে ফোনালাপে তিনি স্পষ্ট করেন যে, তার বক্তব্য উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ অর্থকে কেন্দ্র করেই ছিল।
এম জি