মিরাজ আহমেদ, মাগুরা
জুলাই ২৫, ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম
মাগুরার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের নার্সিং ইনস্টিটিউটের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন ব্যবহারের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা শুরু হয়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, নার্সিং সংশ্লিষ্টরা এবং শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, ঘটনাটি একপাক্ষিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এটি অপপ্রচারের অংশ।
সম্প্রতি একটি ফেসবুক পোস্টে হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন-এমন কয়েকজন নার্সিং শিক্ষার্থীর ছবি প্রকাশ করে হাসপাতালের পরিবেশ ও সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এরপর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এ বিষয়ে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মহসিন উদ্দিন ফকির বলেন, যাদের ছবি দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে, তারা হাসপাতালের স্টাফ নন; তারা নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। তারা এখানে প্রশিক্ষণ নিতে আসে। একটি ছবি দেখে কেউ বলতে পারে না, সে তার বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন কিংবা জরুরি কোনো বিষয়ে কথা বলছে কি না। এভাবে ছবি বা ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়। এতে হাসপাতালের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে নেতিবাচক প্রচারণা জনমনে ভুল বার্তা দেয়। অথচ এই হাসপাতাল প্রতিদিন হাজারো মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। ভালো কাজগুলোরও মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন।
নার্সিং সংশ্লিষ্টরা জানান, একজন নার্সিং শিক্ষার্থী বা সিনিয়র স্টাফ নার্সকে সকাল ও সন্ধ্যায় ছয় ঘণ্টা এবং রাতে টানা ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। দীর্ঘ কর্মঘণ্টার মধ্যে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জরুরি প্রয়োজনে ফোনে কথা বলা বা অবসর সময়ে মোবাইল ব্যবহার করাকে দায়িত্বে অবহেলা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তাদের দাবি, ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও প্রতিদিন এক হাজারেরও বেশি রোগী এখানে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। প্রয়োজনের তুলনায় কম জনবল নিয়েই নার্সরা নিরলসভাবে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আফিয়া জারা বলেন, যদি নার্সরা সারাক্ষণ মোবাইল ফোন নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন, তাহলে পুরো হাসপাতালের কার্যক্রম চলত কীভাবে? খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনো সিনিয়র স্টাফ নার্সকে ফোন ব্যবহার করতে দেখা যায় না। শিক্ষার্থীরাও রোগীর কাজ না থাকলে বা অবসর সময়ে ফোন ব্যবহার করে। শিশু ওয়ার্ডে অনেক সময় নার্সরা টানা কয়েক ঘণ্টা বসারও সুযোগ পান না। কিন্তু তাদের সেই পরিশ্রমের চিত্র খুব কমই সামনে আসে।
তিনি আরও বলেন, সব পেশাতেই ভালো-মন্দ মানুষ আছে। কিন্তু নার্সদের ক্ষেত্রে শুধু নেতিবাচক দিকগুলোই বেশি প্রচার করা হয়। অথচ তারা সীমিত জনবল নিয়েও প্রতিনিয়ত সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন রোগীদের সেবা দিতে।
এদিকে হাসপাতালের লিফট বারবার বিকল হওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং নির্দেশনা না মানার কারণে লিফটের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে উন্নত প্রযুক্তির লিফট স্থাপন এবং একজন লিফটম্যান নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, হাসপাতালের কোনো অনিয়ম থাকলে তা অবশ্যই তথ্য-প্রমাণসহ তুলে ধরা উচিত। তবে বিচ্ছিন্ন ছবি বা ভিডিও দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি না করে প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করে সংবাদ ও মতামত প্রকাশ করা প্রয়োজন। এতে যেমন জনস্বার্থ রক্ষা হবে, তেমনি স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিতদের মনোবলও অক্ষুণ্ণ থাকবে।
এম জি