Amar Sangbad
ঢাকা বুধবার, ০৬ জুলাই, ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

সরাসরি চুক্তি চায় বাংলাদেশ ব্যাংকের এমএলএসএস কর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুন ১৯, ২০২২, ০৮:৪৯ পিএম


সরাসরি চুক্তি চায় বাংলাদেশ ব্যাংকের এমএলএসএস কর্মীরা

সেবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ব্যতিত সরাসরি সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দেয়ার দাবিতে গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকে এমএলএসএস পদে কর্মরত কর্মীরা। 

রোববার (১৯ জুন) গভর্নর ফজলে কবিরের দপ্তরে স্মারকলিপি পৌঁছে দেন তিনজন প্রতিনিধি। স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন ২৫০ জন কর্মী। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমএলএসএস পদে কর্মরত একজন কর্মী আমার সংবাদকে বলেন, ‘এমনিতেই বেতনের বাইরে কোন সুযোগ সুবিধা আমরা পাইনা। বেতন যা পাই তা থেকে ৫ হাজার টাকা কেটে নেয় সেবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। উর্ধ্বমূল্যের বাজারে এতে আমাদের সংসার চলে না। আমাদের মধ্যে অনেকেই প্রায় ২১ বছর ধরে কাজ করছে। তাই আমাদের সরাসরি চুক্তির আওতায় নিয়ে আসলে ৫ হাজার টাকা বেশি পেতাম। এতে কিছুটা হলেও শাস্ত্রয় হত।’ 

সেবা সরবরাহকারী অরনেট কোম্পানির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে আউটসোসিং-এ  এমএলএসএস হিসেবে কর্মরত আছেন ৬৫০ জন কর্মী। এদের মধ্যে অনেকে ২০০১ সাল থেকে কর্মরত আছেন। 

স্মারকলিপিতে তারা বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘আউটসোসিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালা ২০১৮’ বলা আছে,  কর্মচারি সরবারাহকারী প্রতিষ্ঠান ব্যতীত সরাসরি সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে সেবা ক্রয়ের চুক্তি করতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাই নীতিমালা অনুযায়ী গভর্নরের কাছে সরাসরি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদানের মানবিক আবেদন করেন তারা।

গভর্নরের কাছে দেয়া চিঠিতে তারা বলেন, আমরা অনেকেই বিগত ২০০১ হতে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে সততার সঙ্গে কাজ করে আসছি । তবে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আগে আমরা দুটি ঈদ বোনাস ও নববর্ষ ভাতা পেতাম; বর্তমানে এগুলো থেকেও আমরা বঞ্চিত। কিন্তু আমাদের পরিবারকে বিশ্বাস করাতে পারিনা, আমাদেরকে বোনাস ভাতা দেওয়া হয় না ।

‘অর্থমন্ত্রণালয়ের ২০১৮ নীতিমালা অনুযায়ী ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ক্যাটাগরি-১ অনুযায়ী জন্য মাসিক সেবা মূল্য ১৯ হাজার ১১০ টাকা নির্ধারণ রয়েছে। তবে বর্তমানে এমএলএসএস পদে আমাদের মাসে বর্তমানে ১৭ হাজার ৬১০ টাকা দেয়া হয়। যদিও ২০১৮ নীতিমালায় এমএলএসএস পদ উল্লেখ নেই ।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের ১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ সার্কুলার উল্লেখ করে তারা বলেন, ব্যাংকগুলো নিরাপত্তাকর্মী, পরিছন্নতাকর্মী, অফিস সহায়কদের বিভাগীয় শহরে ন্যূনতম ২৪ হাজার টাকা বেতন দিবে এবং জেলা শহরে ন্যূনতম ২১ হাজার টাকা হবে। এর সঙ্গে আউটসোসিংয়ের মাধ্যমে কর্মরতদের সমন্বয় করা হবে। কিন্তু ব্যাংকগুলো এপ্রিল থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করলেও আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে থেকে এমন সুবিধা পাচ্ছি না।

এমএলএসএস কর্মীরা বলেন, দেশের বাজারে পণ্যের দামে আগুন। সকল ধরণের জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় পরিবার নিয়ে সংসার চালাতে পারছিনা। আমাদের ঋণের পাল্লা খুব বেড়ে যাচ্ছে। যার ফলে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে জীবন যাপন করছি এবং ছেলে-মেয়েদের ভালো প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করাতে পারছি না। গভর্নর যদি আমাদের দিকে তাকায় তাহলে আমাদের কষ্টের জীবনে কিছুটা দুঃখ লাগব হবে।

একজন এমএলএসএস কর্মী বলেন, ‘আমাদের যে নতুন যোগদান করছে তার বেতনও ১৭ হাজার ৬১০ টাকা। আর যে বিশ বছর যাবত চাকরি করছে তারও বেতন সমান। মৃত্যুর পরেও একটা ভাতা পাওয়ার কথা তা আমাদেরকে দিচ্ছে না। এছাড়া আগে দুই ঈদে এবং নববর্ষের ভাতা পেতাম, ২০১৮ সাল থেকে তাও পাচ্ছি না।’

অন্যদিকে, ফ্রিল্যান্সিং ব্যাংকারদের রেশনিংয়ের আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন গভর্নর ফজলে কবীর। গত শনিবার আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি ব্যাংকগুলোকে এ নির্দেশনা দেন। 

তিনি বলেন, ‘আমি যখন জানতে পেরেছি, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকগুলোতে কর্মীদের বেতন-ভাতা কম দেয়া হচ্ছিলো, তখনই এটি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছি।  এখন আরো একটি কাজ বাকি আছে, তা হলো- ফ্রিল্যান্সিং ব্যাংকারদের রেশনিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা।  আমি অনুরোধ করব শিগগিরই আপনারা এটা করবেন।’