আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মে ১৯, ২০২৬, ১২:১১ এএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবে ৮ হাজার সেনা, একটি যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন এবং আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও দুটি সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেছেন যে, সৌদি আরবের সামগ্রিক নিরাপত্তা জোরদার এবং সম্ভাব্য যেকোনো বড় হামলার ক্ষেত্রে দেশটির সেনাবাহিনীকে সরাসরি সহায়তা দিতেই এই আধুনিক সামরিক বাহিনী পাঠানো হয়েছে। তবে সংবেদনশীল এই সামরিক মোতায়েনের বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী, পররাষ্ট্র দপ্তর কিংবা সৌদি সরকারের মিডিয়া অফিস থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
জানা গেছে, গত বছর দুই দেশের মধ্যে একটি গোপন প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তির শর্তানুযায়ী, পাকিস্তান ও সৌদি আরব একে অপরের ওপর যেকোনো ধরনের বহিরাগত হামলার ক্ষেত্রে সামরিক সহায়তা দিতে বাধ্য থাকবে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ অতীতে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব কার্যত পাকিস্তানের ‘পারমাণবিক সুরক্ষা বলয়ের’ আওতায় রয়েছে।
নিরাপত্তা সূত্রগুলোর তথ্যমতে, পাকিস্তান প্রায় ১৬টি যুদ্ধবিমান নিয়ে গঠিত একটি পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড্রন সৌদি আরবে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ (JF-17) ফাইটার জেট। এগুলো গত এপ্রিলের শুরুর দিকে সৌদি আরবে পৌঁছায়। এর পাশাপাশি পাকিস্তান দুটি ড্রোন স্কোয়াড্রনও সেখানে মোতায়েন করেছে।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে বিমানবাহিনীর পাশাপাশি প্রায় ৮ হাজার পাকিস্তানি সেনা সদস্য সৌদিতে অবস্থান নিয়েছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে আরও সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। একই সাথে আকাশে শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান রুখে দিতে চীনা প্রযুক্তিতে তৈরি এইচকিউ-৯ (HQ-9) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সৌদি আরবে পাঠিয়েছে ইসলামাবাদ। এসব আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম পাকিস্তানি সেনাসদস্যরাই সরাসরি পরিচালনা করছেন।
চুক্তির শর্তে সৌদিতে পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে কোনো যুদ্ধজাহাজ ইতোমধ্যে সৌদি আরবের জলসীমায় পৌঁছেছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স।
জেএইচআর