আমার সংবাদ ডেস্ক
মার্চ ৫, ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
হত্যাচেষ্টা মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা ও প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান রিয়াদকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া রিয়াদুল হাওলাদার, আলিফ আহম্মেদ আশিক ও সায়েম শিকদারের রিমান্ড আবেদন এবং জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. সেফাতুল্লাহ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই আরমান আলী চার আসামির প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন নির্ধারণ করেন।
শুনানির সময় আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে রিয়াদের পক্ষে আইনজীবী জাকির হোসাইন এবং বাকি তিন আসামির পক্ষে সাখাওয়াত হোসেন রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিন দেওয়ার আবেদন জানান। এ সময় তিন আসামির আইনজীবী আদালতকে বলেন, তারা চাকরিপ্রার্থী হওয়ায় জামিনের বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ জানানো হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নির্জন সরদার বাঁধন বাদী হয়ে রাজ্জাকসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ২২ জনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।
এজাহারে বলা হয়, আসামিদের সঙ্গে নির্জন ও তার বন্ধুদের পূর্ব থেকে বিরোধ ছিল। গত বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ তলার ৪১২ নম্বর কক্ষে দেখা হলে আসামিরা তাকে সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার জন্য চাপ দেন। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আনিসুর রহমানের সঙ্গে কথা বলতে গেলে রাজ্জাকের নির্দেশে রিয়াদুল ও সায়েম চেয়ার দিয়ে তাকে আঘাত করেন। এতে নির্জনের পিঠ ও বুকে আঘাত লাগে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে রাজ্জাক সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে নির্জনের মুখে আঘাত করেন। এতে তার নাকে গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এ সময় নির্জনের বন্ধু ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এগিয়ে এলে আসামিরা ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। পরে গুলশান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে।
এর আগে গত বছরের ২৬ জুলাই গুলশানে সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদা দাবির মামলায়ও রাজ্জাক গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে ওই মামলায় জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি পুনরায় এই হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার হন।
এএন