আমার সংবাদ ডেস্ক
জুন ৭, ২০২৬, ০১:২৪ পিএম
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণেই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান ভুক্তভোগী শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।
তিনি বলেন, আমি ১০০ ভাগ খুশি, আলহামদুলিল্লাহ। এই রায়ের মাধ্যমে আমার মনের যে প্রত্যাশা ও আকুতি ছিল, তা আমি পেয়েছি। ইনশাআল্লাহ, আমি শতভাগ আশাবাদী যে এই ফাঁসির রায় খুব দ্রুত কার্যকর হবে। আল্লাহ পাকের অশেষ রহমত এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যেই আমরা কাঙ্ক্ষিত রায় পেয়েছি। মাননীয় বিচারক, পুলিশ প্রশাসন, সাংবাদিক ভাই ও বাংলাদেশের আপামর জনতা যারা আমার ও আমার পরিবারের চরম বিপদের সময়ে মানসিকভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, সবার নিকট আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। অবশ্যই আমি আমার ছোট্ট মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার ও ফাঁসির রায় খুব দ্রুত কার্যকর দেখতে চাই।
কলিজার টুকরো কন্যাকে হারানোর আজীবন কষ্টের মাঝেও আদালতের এই অভূতপূর্ব রায়ের পর যেন কিছুটা স্বস্তির ছোঁয়া মেলে বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার চোখে-মুখে। রায়ের পর আকাশের দিকে হাত তুলে তাকিয়ে তিনি বারবার আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে বলেন, আলহামদুলিল্লাহ। ওই সময় আদালত প্রাঙ্গণে রামিসার পরিবারের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন, যাদের সবার চোখেই ছিল স্বস্তির জল।
এর আগে রায় ঘোষণা শেষে দুই আসামিকে দুপুর ১২টার দিকে আদালত থেকে প্রিজন ভ্যানে তোলার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে দুপুর ১২টার দিকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ভ্যানে তোলা হয়। এর ঠিক ১০ মিনিট পর দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে অপর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে প্রিজন ভ্যানে ওঠানো হয়। ওই সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা দুই ফাঁসির আসামিকে উদ্দেশ করে ‘খুনি, খুনি’ বলে তীব্র স্লোগান দিতে থাকেন।
গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এই পৈশাচিক ঘটনাটি সামনে আসার পর পুরো দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি ওঠে এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
হত্যাকাণ্ডের দিনই পুলিশ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়া প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। একই সময়ে তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও পুলিশ আটক করে। পরদিন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার ওপর ভিত্তি করেই মাত্র ৬ কার্যদিবসের মধ্যে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করলেন আদালত।
এএন