Amar Sangbad
ঢাকা শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯

তীব্র গরমেও যেভাবে সুস্থ থাকা যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই ২০, ২০২২, ০২:১৫ পিএম


তীব্র গরমেও যেভাবে সুস্থ থাকা যায়

বিশ্বের অনেক দেশের মানুষই এখন গরমে হাঁসফাঁস করছে ৷ ইউরোপও পুড়ছে দাবদাহে ৷ এই সময়ে কী করে এবং না করে, কী কী খেয়ে আর কী কী না খেয়ে মানুষ একটু ভালো থাকছেন? 

মরিচ জিভ পোড়ায়, শরীর জুড়ায়:
গরমে অনেকেই সবজি বেশি খান ৷ সবজিতে মরিচ খান? মরিচে ক্যাপস্টাসিন থাকে এবং তা এমন এক অবস্থা তৈরি করে যা দেখে মস্তিষ্ক মনে করে, শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত খুব বেড়ে যাচ্ছে, তাই সঙ্গে সঙ্গে সে ঘামগ্রন্থিগুলোকে বার্তা পাঠায়, ‘‘কই হে, কাজ শুরু করো ৷’’ অমনি গ্রন্থিগুলো ত্বকের ঘাম বাষ্পীভূত করতে থাকে দ্রুত আর ঘাম শুকালে শরীরে কেমন একটা শীতল অনুভূতি আসে।

গরমে চীন, ভারত, বাংলাদেশের মানুষ যা করে:
চীনে গরমে ওষুধ হিসেবে শরীর উষ্ণ করে এবং শরীর শীতল করে- এমন দুই ধরনের খাবার সমানভাবে খাওয়ার ঐতিহ্য রয়েছে৷ চীনারা বলেন, ইয়িন (ঠান্ডা) আর ইয়াং (গরম জিনিস) একসঙ্গে খাও, গায়ে শক্তি পাবে৷ তো চীনের মানুষ তখন তরমুজ, শসা বেশি খান৷ আর ভারতীয়রা কী করেন? কেন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে তো বলাই আছে, গরমে ডাবের পানি অতীব উপকারী! প্রচণ্ড দাবদাহে বাংলাদেশেও কিন্তু ডাবের পানি বিক্রি বেড়ে যায়৷

নিম্বু পানি, কিংবা লেবুর শরবত:
গরমে লেবুর রসও খুব উপকারী ৷ তাই ভারতে দাবদাহে ‘নিম্বু পানি’ খাওয়ার ধুম পড়ে যায়, বাংলাদেশের মানুষের শরীরেও প্রশান্তি আনে লেবুর শরবত ৷ একই পানীয় মধ্যপ্রাচ্য এবং মালয়েশিয়াতেও পান করা হয়, তবে সেখানে তার নাম যথাক্রমে লিমোনানা’ এবং ‘লিমাউ আসাম বোই’৷ গরমে লেবুর কদর আসলে বিশ্বজোড়া ৷ জার্মানরাও ‘সিত্রোনেজাফট’ খুব পছন্দ করেন।

কম বিয়ারে বেশি আরাম:
যেসব দেশে বিয়ার প্রায় পানির মতো পান করা হয়, গরমে সেসব দেশেও বিয়ার বিক্রি অনেক কমে যায়৷ কারণ, বিজ্ঞানীরা বলেন, গরমে যত কম অ্যালকোহল ততই মঙ্গল, বিয়ার খেলেও ‘পরিমানমতো’ খাওয়াই ভালো ৷

সুতি বা লিনেনের কাপড়:
সবাই বলেন, গরমে হাল্কা রংয়ের কাপড় পরতে হয়৷ তা সেই কাপড়ই খুব আঁটোসাঁটো হলে কিন্তু আর আরাম লাগবে না৷ তাই একটু ঢোলা কাপড় পরাই ভালো৷ এমনকি গরমে স্লিভলেস জামা পরারও কোনো দরকার নেই৷ বরং ফুলহাতা জামা গায়ে দিয়ে ত্বককে রোদের হাত থেকে একটু বাঁচান৷ আর হ্যাঁ, সুতি বা লিনেনের কাপড়ও গরমে পরতে খুব আারাম।

কাপড়ের রং বড় সমস্যা নয়:
১৯৮০ সালে গরমে কাপড়ের রংয়ের প্রভাব পরীক্ষা করে দেখে দ্য নেচার৷ এক মরুভূমিতে ঢিলেঢাল সাদা এবং কালো কাপড় আর শর্টসের ওপরে সেনাবাহিনীর পোশাক পরিয়ে কিছু মানুষকে নামিয়ে দিয়ে জার্নালটি দেখেছে, হালকা রংয়ে তাপ প্রতিফলিত হয় তা ঠিক, কালো রং শরীরের তাপ শুষে নিতে সহায়তা করে, তা-ও ঠিক, তবে কাপড়ের রং আসলে বড় কোনো ব্যাপার নয়৷ ঢিলেঢালা কাপড় পরলে বাতাস চলাচলে সুবিধা হয় এবং তাতে এমনিতেই আরাম বেশি লাগে৷

নিরাপদ সময়, কিংবা নিরাপদ ছাতা:
হ্যাঁ, ইউরোপের মানুষ এখন জেনে গেছে, গ্রীষ্মের গরমে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত চার দেয়ালের ভেতরে থাকা ভালো৷ ওই সময় ছাতা নিয়ে বের হলেও গরমে হাঁসফাঁস করতে হবে ৷ তবে আজকাল অবশ্য এমন ছাতাও বাজারে এসেছে, যাতে তাপ প্রতিফলিত হয়ে দূরে সরে যায়৷

হাতপাখা:
বিদ্যুৎ যেখানে নেই, এসি চলছে না বা মাথার ওপরে যেখানে ফ্যানও ঘুরছে না, তেমন পরিবেশে হাতপাখার ব্যবহার সব দেশের মানুষই করে থাকেন৷ ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বেই তো এখন জ্বালানি সংকট প্রকট৷ তাই এই দাবদাহে হাতপাখার ব্যবহার স্বাভাবিক কারণেই বেড়েছে৷


আমারসংবাদ/টিএইচ