ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬
আলী রীয়াজের বিশ্লেষণ 

জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলের দায়বদ্ধতা ও নোট অব ডিসেন্ট  

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

জানুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম

জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলের দায়বদ্ধতা ও নোট অব ডিসেন্ট  

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে। একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং বহুল আলোচিত ‘গণভোট’ আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই প্রক্রিয়ার আইনি ভিত্তি, নৈতিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে সম্প্রতি বিস্তারিত কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

গত দেড় দশকের রাজনৈতিক অচলায়তন ভেঙে ছাত্র-জনতার যে অভ্যুত্থান ঘটেছে, তার মূল স্পিরিট বা চেতনাকে ধারণ করেই এই সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আলী রীয়াজের মতে, এটি কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষার এক ‘গণ-দলিল’।

গণভোট সামনে রেখে একটি বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে সরকার কি কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের হয়ে প্রচারণা চালাতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তরে আলী রীয়াজ অত্যন্ত স্পষ্ট। তিনি আন্তর্জাতিক উদাহরণ টেনে দেখান যে, ব্রেক্সিটের মতো বড় গণভোটে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সরাসরি পক্ষ নিয়েছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধান, আরপিও কিংবা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশে সরকারের পক্ষ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা নেই।

তিনি বলেন, 'এই সরকার কোনো সাধারণ নির্বাচনকালীন সরকার নয়, এটি একটি বিপ্লব বা অভ্যুত্থানের ফসল। সংস্কার করাই এই সরকারের প্রধান ম্যান্ডেট। তাই যে সংস্কারের জন্য আমরা এক লাখ মানুষের মতামত নিয়েছি, ৫০ হাজার মানুষের ওয়েবসাইটের পরামর্শ নিয়েছি, তার পক্ষে অবস্থান নেওয়া সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।

গণভোটের ব্যালট পেপারে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত ৪৮টি প্রস্তাবকে ৪টি প্রধান বিষয়ে ভাগ করা হয়েছে। কিন্তু উত্তর দিতে হবে কেবল একটি 'হ্যাঁ' অথবা 'না'। এই পদ্ধতি নিয়ে সমালোচকদের যুক্তির বিপরীতে আলী রীয়াজ ঐতিহাসিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সংবিধান একটি 'কম্পোজিট ডকুমেন্ট' বা সামগ্রিক দলিল। কেনিয়া, তিউনিসিয়া বা তুরস্কের মতো দেশে যখন বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়, তখন শত শত অনুচ্ছেদ বদলালেও প্রশ্ন থাকে একটাই। বাংলাদেশে ১৯৯১ সালে সংসদীয় পদ্ধতিতে ফেরার সময়ও একই ধারা অনুসরণ করা হয়েছিল।

ভবিষ্যৎ নিয়ে নেতিবাচক আশঙ্কার চেয়ে ইতিবাচক ফলের প্রতি আলী রীয়াজের অগাধ আস্থা। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তনের জন্য উন্মুখ। "গত দেড় বছরে যারা নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেছিলেন, তারা বারবার ভুল প্রমাণিত হয়েছেন," উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো প্রাথমিক দ্বিমত সত্ত্বেও 'জুলাই জাতীয় সনদ'-এ ঐক্যমতে পৌঁছেছে। এটিই প্রমাণ করে যে জাতি বড় কোনো পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত।

একটি বড় আইনি প্রশ্ন সামনে এসেছে আগামী সংসদ কি এই সংস্কার মানতে বাধ্য? আলী রীয়াজ একে ব্যাখ্যা করেছেন 'লিমিটেড কনস্টিটিউয়েন্ট পাওয়ার' বা সীমিত গাঠনিক ক্ষমতা হিসেবে। তার মতে, ত্রয়োদশ সংসদ কেবল দেশ পরিচালনা করবে না, এটি একটি 'সংবিধান সংস্কার পরিষদ' হিসেবেও কাজ করবে।

সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যখন এই সংস্কারের অনুমোদন দেবে, তখন সেটি আর কেবল সংসদের মর্জির ওপর নির্ভর করবে না। এটি জনগণের সার্বভৌম আকাঙ্ক্ষায় পরিণত হবে। আদালত বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান যাতে ভবিষ্যতে এই সংস্কারকে চ্যালেঞ্জ করতে না পারে, সেজন্যই গণভোটের মাধ্যমে একে সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

জুলাই সনদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নবনির্বাচিত সংসদকে ১৮০ দিনের মধ্যে এই সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে। কেন এই সময় বেঁধে দেওয়া? আলী রীয়াজ জানান, সংস্কার প্রক্রিয়াকে অনন্তকাল ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। দ্রুততম সময়ে রাষ্ট্রকে একটি নতুন কাঠামো দিতে এই সময়সীমা জরুরি। নেপাল বা পাকিস্তানের মতো দেশগুলোতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার যে উদাহরণ রয়েছে, বাংলাদেশ সেই পথে হাঁটতে চায় না।

বিএনপি বা অন্য বড় দলগুলোর কিছু প্রস্তাবে 'নোট অব ডিসেন্ট' বা ভিন্নমত ছিল। নির্বাচনের পর তারা যদি ক্ষমতায় আসে, তবে তারা কি সেই ভিন্নমতগুলো চাপিয়ে দেবে? আলী রীয়াজ মনে করেন, গণভোটের রায় সবকিছুর ঊর্ধ্বে। কোনো দল যদি জুলাই সনদে সই করে এবং পরবর্তীতে জনগণ গণভোটে তার পক্ষে রায় দেয়, তবে সেই রায় বাস্তবায়ন করা ওই দলের জন্য 'নৈতিক ও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা' হয়ে দাঁড়াবে। জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে যাওয়া যেকোনো দলের জন্যই রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হবে।

অধ্যাপক আলী রীয়াজের প্রতিটি বক্তব্যে ফুটে উঠেছে একটি অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন। তিনি বিশ্বাস করেন, জুলাই জাতীয় সনদ কেবল একটি কাগজ নয়, এটি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নিশ্চিত করার রক্ষাকবচ। গণভোটের মাধ্যমে এই সনদের যে 'মালিকানা' জনগণের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে, তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্থায়ী স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোট কেবল প্রতিনিধি নির্বাচনের লড়াই নয়, বরং এটি বাংলাদেশের মৌলিক কাঠামোর খোলনলচে বদলে ফেলার এক চূড়ান্ত পরীক্ষা। আলী রীয়াজের ভাষায়, জনগণকে বলতে দিন, তারা কীভাবে সংস্কার বাস্তবায়ন দেখতে চায়।

এএন

Link copied!