নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম
বাংলাদেশের সংবিধানকে প্রকৃত অর্থে জনমুখী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বৈচিত্র্যময় করার এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে দেশ। এই পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি হলো প্রস্তাবিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ এক বলিষ্ঠ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বহু জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের আইনি স্বীকৃতি সংবিধানে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করা ছাড়া বিকল্প নেই।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশ কেবল একটি বিশেষ গোষ্ঠী বা ধর্মের নয়, বরং এটি বহু জাতিগোষ্ঠী, বহু ধর্ম এবং বহু ভাষার মানুষের মিলনস্থল। তিনি বলেন, “আপনারা যদি চান যে সংবিধানে এই বৈচিত্র্যের স্বীকৃতি সুস্পষ্টভাবে থাকুক, তবে আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব হলো ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করা।”
তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে এই বাস্তবতাকে স্বীকৃতি না দিলে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত হবে না এবং দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও অপরিমেয় সম্ভাবনাগুলো বাধাগ্রস্ত হবে। সংবিধান সংস্কার কেবল ভোটাধিকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি ধর্ম পালন, ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যগত অধিকারসহ সামগ্রিক নাগরিক নিরাপত্তার প্রশ্ন।
মতবিনিময় সভায় আলী রীয়াজ ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই সনদ মূলত পাহাড় ও সমতলের মানুষকে বিভক্ত করার নোংরা রাজনীতির বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী অবস্থান।
ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক সমতা: সনদটি ভাষা ও সংস্কৃতির রক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগের প্রস্তাব করে।
অধিকার সুরক্ষা: কোনো সরকার যেন ধর্ম বা বর্ণের দোহাই দিয়ে কাউকে নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে না পারে, জুলাই সনদ সেই রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।
অধ্যাপক রীয়াজ জানান, দেশের প্রায় প্রতিটি প্রধান রাজনৈতিক দল সংবিধানে এই সংস্কারগুলো অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে একমত পোষণ করেছে। তবে একে বাস্তবে রূপ দিতে হলে গণভোটের রায় প্রয়োজন। তিনি বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করার সবচেয়ে সহজ পথ হলো জুলাই জাতীয় সনদকে গণভোটে বিজয়ী করা। এটি বিজয়ী হলে রাজনৈতিক দলগুলো তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য থাকবে।
গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে একটি গোষ্ঠী উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আলী রীয়াজ। তিনি সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন যে কোনো তথ্য বিশ্বাস করার আগে দয়া করে জুলাই সনদটি নিজ চোখে পড়ে দেখুন। অপপ্রচারের মাধ্যমে জাতীয় সংস্কারের এই মহৎ উদ্যোগকে যেন কেউ নস্যাৎ করতে না পারে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখুন।
হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব কামাল উদ্দিন। বক্তারা সকলে একযোগে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সকল নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এএন