Amar Sangbad
ঢাকা শনিবার, ০২ মার্চ, ২০২৪,

কালের সাক্ষী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

সাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া

সাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া

অক্টোবর ১৮, ২০২৩, ০৭:০০ পিএম


কালের সাক্ষী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

প্রথমে জগন্নাথ স্কুল তারপর জগন্নাথ কলেজ থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন,দেশ ভাগ,ভাষা আন্দোলন,মহান মুক্তিযুদ্ধ যুদ্ধ, বাঙালির সকল স্বাধিকার আন্দোলনের তীর্থভূমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।কালের সাক্ষী হয়ে আজও আলোর মশাল জ্বেলে পথ দেখাচ্ছে উপমহাদেশের প্রাচীন এই বিদ্যাপীঠ।

১৮৫৮ সালে দীননাথ সেন, প্রভাতীচরণ রায়, অনাথবন্ধু মল্লিক এবং ব্রজসুন্দর কৈত্র ঢাকা ব্রাহ্ম স্কুল নামে এর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৮৭২ সালে এর নাম বদলে জগন্নাথ স্কুল করা হয়। মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটির জমিদার কিশোরীলাল রায় চৌধুরী তার বাবার নামে জগন্নাথ স্কুল নামকরণ করেন।

১৮৮৪ সালে এটি একটি দ্বিতীয় শ্রেণির কলেজে ও ১৯০৮ সালে প্রথম শ্রেণীর কলেজে পরিণত হয়। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা শুরু হলে জগন্নাথ কলেজের স্নাতক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। জগন্নাথ কলেজের ডিগ্রির শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গ্রন্থাগারের বই পুস্তক, জার্নাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। পুরানো ঢাকার নারী শিক্ষায় বাধা দূর করতে ১৯৪২ সালে সহশিক্ষা চালু করা হয়। ১৯৪৮ সালে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে ১৯৪৯ সালে আবার এ কলেজে স্নাতক পাঠ্যক্রম শুরু হয়।

১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়।পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ভাষা সৈনিক তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের শিক্ষার্থী রফিক।

১৯৬৩ সালে অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান পুনরায় কো-এডুকেশন চালু করেন। ১৯৬৮ সালে এটিকে সরকারীকরণ করা হয়, কিন্তু পরের বছরেই আবার এটি বেসরকারী মর্যাদা লাভ করে।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জগন্নাথ কলেজে পাকিস্তানি সেনারা হামলা চালায়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রঙ্গনে গণহত্যা চালানো হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জগন্নাথের কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী শহীদ হন। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে এবং মুক্তির সংগ্রামে অংশগ্রহণ করে। জগন্নাথ কলেজে পাকিস্থানি সেনাদের ক্যাম্প করা হয়।

যুদ্ধ শেষে এখানে গণকবরের সন্ধান মেলে; উদ্ধার করা হয় কয়েক ট্রাক ভর্তি মানব কঙ্কাল। ১৯৮২ সাল থেকে শুরু হয় এলাকার প্রভাবশালীদের জগন্নাথ কলেজের হল দখলের পাঁয়তারা। ছাত্রদের সাথে এলাকাবাসীর সংঘর্ষ বাধে বারবার। প্রথমে বেদখল হয়ে যায় কুমারটুলি ছাত্রাবাস। এরপর একের পর এক বেদখল হয় ৮৪ জিএল পার্থ লেন, কুমারটুলিতে (ওয়াইজঘাট ষ্টার সিনেমা হলের পিছনে) অবস্থিত হলগুলো। ১৯৯২ সালে ১৪টি ছাত্রাবাসের মাত্র ৩টি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকে। বাকিগুলো সময়ের সাথে প্রভাবশালীদের হাতে চলে যায়। ৩টি ছাত্রাবাসের দুটি (মাহমুদা স্মৃতি ভবন ও এরশাদ হল) বর্তমানে ভেঙ্গে মসজিদ ও কলা অনুষদ করা হয়েছে।

২০০৫ সালে তীব্র আন্দোলনের মুখে জাতীয় সংসদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ পাশের মাধ্যমে এটি পুর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।বর্তমানে মোট সাতটি অনুষদের অধীনে ৪০ টি বিভাগের ও ২টি ইন্সিটিউটের মাধ্যমে এখানে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। আবাসিক সংকট নিরসনে হল আন্দোলনের মুখে ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেরানীগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গরূপে আধুনিক নতুন ক্যাম্পাস স্থাপনের লক্ষ্যে ২০০ একর যায়গা বরাদ্দ দেয়ার ঘোষণা দেন।যেখানে চলছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণ চলমান।

বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আশানুরূপ সুযোগ সুবিধা নেই।তবুও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ১৮ বছর পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে  নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য সুনাম অর্জন করে চলছে।দেশের অন্যতম প্রধান বিদ্যাপীঠ হয়ে উঠেছে আমার প্রিয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

লেখক: কথাশিল্পী ও সাংবাদিক

Link copied!