Amar Sangbad
ঢাকা বুধবার, ০৬ জুলাই, ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

সাংগঠনিক কার্যক্রমে বিতর্ক

মৎস্যজীবী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

রফিকুল ইসলাম

রফিকুল ইসলাম

মে ২২, ২০২২, ০২:২৫ এএম


মৎস্যজীবী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। দিবসটি উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সংগঠনটি। এদিকে আওয়ামী লীগের সহযোগী সাংগঠন হয়েও দীর্ঘদিনে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হতে পারেনি মৎস্যবীজী লীগ। 

কমিটি গঠনে আর্থিক লেনদেন, কমিটিবাণিজ্য, বিএনপি-জামায়াতের অনুপ্রবেশের অভিযোগ রয়েছে সংগঠনটির দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে। গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে বিতর্কিত ও হাইব্রিড নেতাদের। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ খোদ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। ২০০৪ সালের ২২ মে প্রতিষ্ঠা হয় আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ। 

সে হিসেবে আজ সংগঠনটি ১৮ বছরে পদার্পণ করল। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সংগঠনটি। সকাল ৮টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন, সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ১১টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

তথ্যমতে, ২০১৯ সালে আওয়ামী মৎস্যবীজী লীগকে দলের সহযোগী সংগঠনের মর্যাদা দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে সময় তিনি মৎস্যজীবী পেশার সঙ্গে জড়িত পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীকে মূল স্রোতে আনতে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। 

তবে সহযোগী সংগঠনের মর্যাদা পাওয়ার পরও সাংগঠনিকভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি মৎস্যজীবী লীগের শীর্ষ নেতারা। গুছিয়ে নিতে পারেননি জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ে সংগঠনটির রাজনীতি। মেয়াদোত্তীর্ণ নেতৃত্ব দিয়ে চলছে তৃণমূল। কোথাও কোথাও আবার সম্মেলন করলেও বিতর্ক এড়াতে পারেননি সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা। নতুন নেতৃত্ব তৈরিতে আর্থিক লেনদেন, কমিটিবাণিজ্য, বিএনপি-জামায়াতের অনুপ্রবেশ ঘটানোর মতো অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। গুরুত্বপূর্ণ পদপদবিতে বসিয়েছেন বিতর্কিত ও হাইব্রিড নেতাদের, যা নিয়ে ক্ষুব্ধ সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা। 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মে অনুষ্ঠিত হয় মহানগর উত্তর মৎস্যবীজী লীগের সম্মেলন। ওই সম্মেলনে উত্তরের সভাপতির দায়িত্ব পান দেলোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হন আবদুল জলিল। সভাপতি দেলোয়ার হোসেন সাভারের তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি। বর্তমানে মামলা চলমান থাকার পরও তাকে সভাপতি করা হয়েছে। আর নবঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল ছিলেন পল্লবী থানা বিএনপির সহসম্পাদক। 

অথচ বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন খোদ আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে তার নির্দেশনা উপেক্ষা করেই বিতর্কিতদের দিয়ে কমিটি গঠন করেছে আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ। সম্প্রতি সংগঠনটির এমন কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে দলটির আয়োজনে আলোচনা সভায় মৎস্যজীবী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কর্মী নেই— এমন নেতার দরকার নেই। সাজানো সংসারে বসে নেতৃত্ব দেয়ার দরকার নেই। যারা নেতৃত্ব দিতে চান, তাদের কর্মী সৃষ্টি করতে হবে।  কর্মীদের আদর্শবান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সাজানো সংসারে হঠাৎ এসে নেতাগিরি করবেন, আপনার কর্মী থাকবে না— এটা হতে পারে না। এটা গ্রহণযোগ্য নয়। 

তিনি আরও বলেন, আপনাদের (মৎস্যজীবী লীগ) সহযোগী সংগঠনের মর্যাদা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তার ফল কী এটা?  এই নেতৃত্ব দিয়ে চলবে না। গতিশীল নেতৃত্ব দরকার। যার বাহুবল আছে, আদর্শবান, তাকেই নেতৃত্ব দিতে হবে। কর্মী সৃষ্টি করতে পারলেই নেতৃত্ব দেয়া হবে—মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সেটাই চান। 

তবে সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সংগঠনের অগ্রগতি নিয়ে মুঠোফোনে কথা বলতে রাজি হননি আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের কার্যকরী সভাপতি মো. সাইফুল আলম (মানিক)। তিনি বলেন, কথা বলার দরকার থাকলে আমাদের অফিসে (মৎস্যজীবী লীগের কেন্দ্রীয় অফিস) আসুন। 

এদিকে বিতর্ক থাকলেও বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালে মানবিক কর্মসূচির কারণে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের নেতাকর্মীরা। অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। এছাড়া নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মাঝে বিতরণ করেছেন নগদ অর্থ। তাদের এমন কার্যক্রমে খুশি খোদ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। 

নবঘোষিত মহানগর উত্তর মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে নানামুখী বিতর্ক ও অভিযোগ থাকলেও বিষয়টি জানা নেই বলে দাবি করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লায়ন শেখ আজগর লস্কর। তিনি আমার সংবাদকে বলেন, তাদের ঘিরে বিতর্ক আছে— এমন বিষয়টি আমার জানা নেই।