ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬

বেইলি রোডে রাজনীতির নতুন সমীকরণ: তারেক-নাহিদ বৈঠকের ইনসাইড স্টোরি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ১২:০৬ এএম

বেইলি রোডে রাজনীতির নতুন সমীকরণ: তারেক-নাহিদ বৈঠকের ইনসাইড স্টোরি

নির্বাচনী উত্তাপ শেষে যখন ফলাফলের হিসাব-নিকাশ আর সরকার গঠনের প্রস্তুতি তুঙ্গে, ঠিক তখনই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরল ও সৌজন্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হলো রাজধানীর বেইলি রোডে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের ঠিক ৪৮ ঘণ্টার মাথায় আজ রোববার রাত সাড়ে আটটায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে যান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এই সাক্ষাৎকে কেবল একটি সৌজন্য বিনিময় হিসেবে দেখছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বরং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে পুরনো ঘরানার 'সংঘাতের রাজনীতি' থেকে বেরিয়ে 'সংলাপের রাজনীতি' চালুর একটি শক্তিশালী সিগন্যাল হিসেবেই একে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বেইলি রোডের বাসভবনে তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এনসিপির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এবং উত্তরবঙ্গের প্রভাবশালী সংগঠক সারজিস আলম।

বৈঠকের শুরুতে তারেক রহমানকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। তবে সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি তৈরি হয় যখন নাহিদ ইসলাম তারেক রহমানের হাতে ‘শহীদ আনাসের ফ্রেমে বাঁধানো চিঠি’ তুলে দেন। জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিবাহী এই উপহারের পাশাপাশি এনসিপির দলীয় প্রতীক ‘শাপলা কলি’-র একটি স্টিলের প্রতিকৃতিও তাকে উপহার দেওয়া হয়।

প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে উঠে এসেছে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা। বৈঠক শেষে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন সংবাদ সম্মেলনে আলোচনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন:

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন এবং যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের পুনর্বাসন এবং অপরাধীদের বিচারের বিষয়টি অগ্রাধিকার পেয়েছে।

রাষ্ট্রকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপি ও এনসিপি কীভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারে, তা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।

নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত সংঘাতের খবর আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম। তারেক রহমান তাৎক্ষণিকভাবে আশ্বস্ত করেন যে, বিএনপির পক্ষ থেকে এসব সহিংসতা রোধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচনে কয়েকটি আসনের ফলাফল নিয়ে এনসিপির মনে কিছু প্রশ্ন থাকলেও, সেগুলো ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থ। আখতার হোসেন বলেন, ‘আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকবে, আদর্শিক পার্থক্য থাকবে; কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা এক টেবিলে বসব। এটিই আমাদের নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি।’

বৈঠকে কৃষি, শিক্ষা, শিল্প ও বাণিজ্য নিয়ে ‘পলিসি ডায়ালগ’ বা নীতি-সংলাপের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এনসিপির পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে যেন সরকার ও বিরোধী দল কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা না করে গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেয়।

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বহুল প্রতীক্ষিত প্রশ্নটি ছিল—এনসিপি কি বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভায় যোগ দিচ্ছে? জবাবে আখতার হোসেন অত্যন্ত কৌশলী অবস্থান নেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আজকের সাক্ষাৎটি ছিল সম্পূর্ণ সৌজন্যমূলক। সরকার গঠন বা ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

তারেক রহমানের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে বেইলি রোড এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আশেপাশের ভবন থেকে শিশু-কিশোর ও সাধারণ মানুষ তাদের প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখতে ভিড় জমায়। রাত সোয়া নয়টায় যখন তারেক রহমান বেরিয়ে যান, তখন তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা না বললেও হাত নেড়ে উপস্থিত জনতার অভিবাদন গ্রহণ করেন।

তারেক রহমান ও নাহিদ ইসলামের এই সাক্ষাৎ প্রমাণ করে যে, ২০২৬-এর বাংলাদেশ আর আগের মতো নেই। বিজয়ী দল হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান নিজেই ছোট বা নতুন দলগুলোর দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন, যা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। অন্যদিকে, এনসিপির মতো উদীয়মান শক্তিগুলোও ‘আন্দোলনের সহযোদ্ধা’ হিসেবে তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে সোচ্চার রয়েছে। এই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সংলাপের সংস্কৃতি যদি অব্যাহত থাকে, তবে বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

এএন

Link copied!