Amar Sangbad
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই, ২০২২, ২১ আষাঢ় ১৪২৯

প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বাংলাদেশে কবে আসলেন?

আমার সংবাদ ডেস্ক

মে ১৫, ২০২২, ০৪:৫০ পিএম


প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বাংলাদেশে কবে আসলেন?

বাংলাদেশ রেলের টিকিট পাওয়া একটি কঠিন বিষয়। তবে বাংলাদেশের ট্রেনে যদি ভ্রমণ করতে চান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাহলে বোধহয় এতোটা কঠিন হওয়ার কথা না। সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে ভ্লাদিমির পুতিনের নামে বুকিং করা একটি রেল টিকিটের ছবি। তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা রসিকতা।

আলোচিত এই বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে দৈনিক কালেরকণ্ঠ পত্রিকা। 

ভাইরাল হওয়া ওই টিকিটে দেখা গেছে, ভ্লাদিমির পুতিনের নামের ওই টিকিটটি গত ৫ মে বুকিং দেওয়া হয়েছে। ধুমকেতু এক্সপ্রেসে কাটা হয়েছে এই টিকিট। যেখানে পুতিনের গন্তব্য দেওয়া হয়েছে রাজশাহী থেকে ঢাকা।  

বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি টিকিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। তা হবারই কথা। কারণ এ টিকিটে গত ৫ মে ধূমকেতু এক্সপ্রেসে চড়ে রাজশাহী থেকে ঢাকা ভ্রমণ করে গেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

রসিকতা হলেও বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে দেখছেন নিরাপদ খাদ্য থেকে রেলওয়ের অতিরিক্ত সচিব হওয়া আলোচিত ব্যক্তিত্ব মাহবুব কবীর মিলন।

তার মতে, সরকারি সিস্টেম নিয়ে রসিকতা করার কোনো অবকাশ নেই। নিজের নাম গোপন রেখে যে কেউ অন্য নামে টিকিট কাটতে পারছে বাংলাদেশে, যা অন্য কোনো দেশে করা কঠিন। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এমনটি অকল্পণীয়। এতে ভয়াবহ বিপদের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে রবিবার স্ট্যাটাস দিয়েছেন রেলের এ সাবেক কর্মকর্তা। তার স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো...

‘ভ্লাদিমির পুতিন’ সাহেব কবে আমাদের দেশে এসে রেলভ্রমণ করে গেলেন তা আমরা কেউ জানলাম না, এটা খুবই দুঃখজনক বিষয়। এভাবে চলতে থাকলে 'বাইডেন' সাহেব এসে রেলে উঠলে সেটাও হয়তো কেউ জানতে পারব না। প্রয়াত জর্জ ওয়াশিংটন বা উইন্সটন চার্চিল  টিকিট কাটলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।

ফান করলাম। কিন্তু সরকারি সিস্টেমে ফান করার কোনো অবকাশ নেই। জগতের কোথাও পাসপোর্ট কিংবা অথরিটি কর্তৃক ভেরিফায়েড নাম ছাড়া অন্য নামে রেল টিকিট করতে পারবে না। কারণ টিকিট করার সময় সিস্টেম তা যথাযথভাবে যাচাই করেই তবে টিকিট ইস্যু করবে।

ভারতে রেল টিকিট করার আগে বিশাল এক ফরম পূরণ করতে হয় বলে জানি। জগৎজুড়ে কেন এত কঠিন সিস্টেম?

কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে যাতে যাত্রীর পরিচয় বের করা যায়। কোনো ধরনের নাশকতায় যাতে জড়িত যাত্রীকে শনাক্ত করা যায়। এ ছাড়া আরো অনেক কারণ আছে।

আমাদের রেল অনলাইন ডাটাবেইস করছে কোনো রকম ভেরিফিকেশন ছাড়াই। যাত্রীকে তার নাম ও এনআইডি নম্বর দিয়ে রেল সার্ভারে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। কিন্তু তা এনআইডি সার্ভার ভেরিফিকেশন ছাড়াই।  

এনআইডি সার্ভারের সাথে রেল হুক-আপ করেনি। ফলে যাত্রী রেলে রেজিস্ট্রেশন করার সময় যেকোনো নাম এবং ১৩ বা ১৭ ডিজিটের যেকোনো সংখ্যা বসিয়ে রেজিঃ করে টিকিট করতে পারে। যেমন '১১১১১১....' বা '২২২৩৩৩৩৩.....'। জর্জ বাইডেন বা ভ্লাদিমি চার্চিল, যে নামই দিন, রেজিস্ট্রেশন হয়ে রেল টিকিট কাটতে পারবেন।

এতে ভয়াবহ ব্যাপার দুটি। এক, যেকোনো নাম ও এনআইডি সংখ্যা বসিয়ে বিপদ ঘটানো। দুই, আপনার অরিজিনাল নাম ও এনআইডি নম্বর যদি কেউ জানে, সে সেটা ব্যবহার করে টিকিট কেটে আপনাকে বিপদে ফেলতে পারে।

এনআইডি সার্ভার হুক-আপ না করে আন্দাজে এনআইডি নম্বর ও নাম দিয়ে কোনো ডাটাবেইস তৈরি করে সেটা ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার সিস্টেম চালু করার কোনো অবকাশ কোনো সরকারি দপ্তরের হতেই পারে না।

রেলে সাড়ে তিন মাস থাকাকালে প্রাণান্ত চেষ্টা করেছিলাম নির্বাচন কমিশন সার্ভারের সাথে রেলের হুক-আপ করানোর জন্য। সিএনএসবিডি আমার অনুরোধে সফটওয়্যারসহ সব কিছু রেডি করে ফেলেছিল। আফসোস! রেলের কোনো সাড়া পাইনি।


ইএফ