community-bank-bangladesh
Amar Sangbad
ঢাকা সোমবার, ২৪ জুন, ২০২৪,

এটিইউ‍‍`র ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

বহুমুখী অভিযানিক কার্যক্রমে এটিইউ

মো. মাসুম বিল্লাহ

মো. মাসুম বিল্লাহ

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৩, ০১:৫৩ পিএম


বহুমুখী অভিযানিক কার্যক্রমে এটিইউ
  •  চার বছরে ৩১৫ জনকে গ্রেপ্তার তারমধ্যে জঙ্গি সংগঠনের ২০৩ সদস্য
  • গ্রেপ্তারদের বড় অংশই নিষিদ্ধ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্য 
  • এক হাজার ২১৭ জন জঙ্গিদের ওপর চালানো হয় গবেষণা
  • অভিযানের পাশাপাশি করা হয় সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান
  • কার্যক্রম পরিচালনার পদ সৃষ্টি করা হয় ৫৮১টি

বহুমুখী কার্যক্রমে জোর দিয়েছে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। ক্রাইমসিন ইনভেস্টিগেশন, বোমা, ক্রাইসিস ইমার্জেন্সি রেসপন্স জঙ্গিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি এখন সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধে বিভিন্ন পর্যায়ে এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি চালানো হচ্ছে। জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে গত অর্থবছরে দেশের ৩০টি ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের মাধ্যমে ৯০০ বিট পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। উগ্রবাদের কারণ অনুসন্ধান এবং প্রতিকারে চলমান রয়েছে দুটি গবেষণা কার্যক্রম।

জঙ্গি দমনে গঠিত পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট এটিইউ‍‍`র ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল আজ (১৯ সেপ্টেম্বর) মঙ্গলবার। ২০১৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর এই ইউনিটের অনুমোদন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়। তবে সকল প্রস্তুতি শেষে আরও দুই বছর পর তারা অভিযানিক কার্যক্রম শুরু করে।
এটিইউ-এর পুলিশ সুপার (অপারেশন) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, অভিযানিক কার্যক্রম শুরুর পর গত চার বছরে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের ২০৩ সদস্যসহ মোট ৩১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এটিইউ এটিইউ সূত্র জানায়, চার বছরে গ্রেপ্তারদের বড় অংশই নিষিদ্ধ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্য। এর মধ্যে জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) ২৪ জন, নব্য জেএমবির ৮ জন, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) ৫৮ জন, আল্লাহর দলের ৩৪ জন, হিযবুত তাহরীরের ৩২ জন, আনসার আল ইসলামের ৪২ জন, উগ্রবাদ প্রচারকারী ৩ জন, হেফাজতে ইসলামের চারজন, অনলাইন প্রতারক ৩১ জন, মাদক কারবারি দু‍‍`জন এবং অন্যান্য বাকিদের গ্রেপ্তার করা হয়। 

এটিইউ সূত্র জানায়, জঙ্গি দমনে গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযানের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানও করছে এটিইউ। এ ছাড়া দেশে জঙ্গি তৎপরতা ও গ্রেপ্তার জঙ্গিদের নিয়ে গবেষণা কার্যক্রমও চালানো হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০২০ পর্যন্ত দুই দশকে গ্রেপ্তার জঙ্গিদের মধ্যে এক হাজার ২১৭ জনের ওপর চালানো ওই গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জঙ্গিবাদ দমনে ২০১৬ সালে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট গঠন করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ইউনিট হিসেবে তাদের কার্যক্রম মূলত ঢাকা কেন্দ্রিক ছিল। পরে আইজিপির নির্দেশে ঢাকার বাইরেও তারা অভিযান চালায়। একপর্যায়ে জঙ্গি দমনে জাতীয়ভাবে কাজ করতে এটিইউ চালুর উদ্যোগ নেয় সরকার। 

২০১৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ইউনিটের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন হলেও তারা মূলত পরের বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে কাজ শুরু করে। আর ২০১৯ সালে ‍‍`অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট বিধিমালা-২০১৯‍‍` প্রণয়নের পর শুরু হয় তাদের অভিযানিক কার্যক্রম। পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে এই ইউনিটের গঠন ও কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৫৮১টি পদ সৃষ্টি করা হয়। এর মধ্যে একজন অতিরিক্ত আইজিপি, একজন ডিআইজি, দুইজন অতিরিক্ত ডিআইজি, পাঁচজন পুলিশ সুপার, ১০ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ১২ জন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), ৭৫ জন পরিদর্শক, ১২৫ জন উপপরিদর্শক এবং বাকি পদগুলো কনস্টেবলের। দেয়া হয় ৪১টি যানবাহন। জঙ্গি দমনে মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হিসেবে ছয়টি শাখায় সাজানো হয়েছে এই বিশেষ ইউনিট । এর মধ্যে সোয়াত, ক্রাইমসিন ইনভেস্টিগেশন, বোমা, ক্রাইসিস ইমার্জেন্সি রেসপন্স, বিস্ফোরক নিষক্রিয়করণ ও কেনাইন অন্যতম। এর সঙ্গে রয়েছে দুটি বিশেষ গবেষণা সেল। 

এদিকে অভিযানিক সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে ইউনিটের দুই শতাধিক সদস্যকে। ইউনিটের দায়িত্বশীলরা জানান, জঙ্গিদের দুর্বল করতে তাদের অস্ত্র ও বিস্ফোরকের উৎস বন্ধের জন্য দুটি গবেষণা সেল কাজ করছে। তারা বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের ধরন সম্পর্কে অনুসন্ধান করে। এরপর সেখানে ব্যবহৃত রাসায়নিক সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে আমদানিকারকের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। এ ছাড়া ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র সম্পর্কেও একটি গবেষণা সেল রয়েছে। এই সেলের সদস্যরা তদন্তের মাধ্যমে কোনো মতাদর্শের জঙ্গিরা কোন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে সে ব্যাপারে তথ্যভান্ডার গড়ে তুলেছে।

এইচআর

Link copied!