Amar Sangbad
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৪,

রাজনীতিতে নানা সমীকরণ

সৈয়দ সাইফুল ইসলাম

নভেম্বর ২১, ২০২৩, ১২:০৫ এএম


রাজনীতিতে নানা সমীকরণ

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৩০ নভেম্বর জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। অর্থাৎ রাজনৈতিক দলের প্রতীকে যারা নির্বাচন করবেন এবং যারা দলের বাইরে এসে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান তাদের হাতে সময় আছে মাত্র ১০ দিন। আজ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এই ১০ দিন দেশের রাজনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কারা নির্বাচনে আসছেন আর কারা আসছেন না এই ১০ দিনের মধ্যেই তা দৃশ্যমান হয়ে যাবে। এরপর ভোট নিয়ে শুরু হবে নানা হিসাব-নিকাশ। আওয়ামী লীগসহ বেশ কয়েকটি দল জোটভিত্তিক নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয়ায় জোট শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি এবং কোন প্রার্থী কোন প্রতীকে নির্বাচন করবেন তাও ঠিকঠাক হবে যাবে ইসির বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, আপিল নিষ্পত্তি, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং প্রতীক বরাদ্দ এসব কিছুই হয়ে যাচ্ছে ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে। 

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে থাকা বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের মিত্ররা ভোটে অংশ নেবে না বলে আগেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ধরেই নিয়েছে বিরোধী শিবিরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো ভোটে আসছে না। আওয়ামী লীগ ও তার রাজনৈতিক মিত্র দলগুলো ভোটের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। জাতীয় পার্টিতে চলছে নানা নাটকীয়তা। এক সময়ের স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টি নির্বাচনে আসবে কিনা, আসলে কোন প্রক্রিয়ায় আসবে, আলাদাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে নাকি মহাজোটের অংশ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে তা নিশ্চিত হতে আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে। নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে দলটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে গতকাল জাপা মহাসচিব গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তবে দলটি ইতোমধ্যেই দলীয় মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করে দিয়েছে। কারণ, যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে যেতে হয়, সেক্ষেত্রে দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রাখা দরকার বলে মনে করছেন জাপার নীতিনির্ধারকরা। 

টানা ক্ষমতায় থাকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে গত শনিবার থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে। আজ মঙ্গলবার মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা দেয়ার কার্যক্রম শেষ করছে আওয়ামী লীগ। এরপর দলটির মনোনয়ন বোর্ড বসে প্রত্যাশীদের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ এখন শতভাগ নির্বাচনমুখী। এদিকে দেশে বিদ্যমান বিরোধী দলগুলোর মধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী দলের নতুন কিছু চিত্র দৃশ্যপটে আসছে। এই দলগুলো হচ্ছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টি। এর মধ্যে জাতীয় পার্টি ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সৎভাব বজায় রাখছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিপরিষদেও ছিল। 

দলটির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবর্তমানে তার ভাই গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জি এম কাদের) এখন দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন। এই দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ আর পার্টি চেয়ারম্যানের মধ্যে দলের নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছে। কোনো কোনো সময় দলটি নানা নাটকের জন্ম দেয়। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে রওশন এরশাদের নামে একটি চিঠি আসে, ওই চিঠিতে তিনি জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করার কথা জানিয়েছেন বলে ইসি জানিয়েছিল। কিন্তু ঘটনার দিন রাতে দেশের একটি প্রভাবশালী গণমাধ্যম বেগম রওশান এরশাদের সঙ্গে কথা বললে তিনি ওই চিঠি সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান। এছাড়া বেগম রওশন এরশাদ সম্প্রতি বঙ্গবভনে গিয়েছিলেন। সেখানে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে দেখা করে নির্বাচন পেছানো এবং সংলাপ আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছেন। এদিকে নির্বাচনের আগে দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষকের তৎপরতাকে আমলেই নিচ্ছে না জাতীয় পার্টি, এমনটাই জানিয়েছেন পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। তিনি ১৯ নভেম্বর এমনটিই জানান। এদিকে গতকাল তিনি দলের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, মনোনয়ন ফরম বিক্রি করলেও দলটি এখনো নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। 

এদিকে রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ২৮ অক্টোবরের পর রাজধানীতে বড় ধরনের কোনো গণজমায়েত করেনি। তবে দল কর্তৃক ঘোষিত হরতাল ও অবরোধের সমর্থনে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রতিদিনই বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করছে। শুরুতে হরতাল ও অবরোধের যে প্রভাব ছিল দলটির ঢিলেঢালা এ তৎপরতায় ক্রমেই সে ভাব কমতে শুরু করেছে। কর্মসূচি চললেও অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে রাজধানীসহ সারা দেশ। কর্মসূচি ঘোষণা দিলেও দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ছাড়া সিনিয়র নেতাদের রাজপথে খুব একটা দেখা যায়নি, যাচ্ছেও না। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামসহ সিনিয়র নেতাদের জেলে রাখার পর দলটির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সিনিয়র নেতাদের কারোই জামিন চাইবে না তারা। কিন্তু এরই মধ্যে বিএনপি মহাসচিব জামিন চাওয়ায় দলের অভ্যন্তরে নানা গুঞ্জন চলছে। তাহলে কি সরকারের সঙ্গে বিএনপির কোনো কথা হচ্ছে নাকি বিএনপি নির্বাচন যাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক হচ্ছে? এমন নানা প্রশ্ন দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে উঁকি দিচ্ছে। 

অপর বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নিয়েও চলছে নানা আলোচনা। দীর্ঘদিন ধরে চলা দলটির নিবন্ধন নিয়ে চূড়ান্ত আদেশের পর দলটি দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে কিনা তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। আইনজীবীদের একটি অংশ বলছে জামায়াতের কার্যক্রম করার সুযোগ নেই। কিন্তু জামায়াতের আইনজীবীরা বলছেন দলীয় তৎপরতা চালাতে কোনো বাধা নেই। গত রোববার আদালতের আদেশের পর গতকাল দলটির ঢাকার বেশ কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন এবং দলের পক্ষ থেকে লিফলেট তৈরি করা হয়েছে, যার মর্মার্থ হচ্ছে ‘জামায়াতের দলীয় কার্যক্রম চলমান থাকবে।’
 

Link copied!