Amar Sangbad
ঢাকা সোমবার, ২০ মে, ২০২৪,

আইডিআরএর সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন স্বদেশ লাইফের সিইও

ইমরান খান

ইমরান খান

এপ্রিল ১৮, ২০২৪, ০৪:২১ পিএম


আইডিআরএর সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন স্বদেশ লাইফের সিইও

বিমা খাতের সিইও পদটি চুক্তিভিত্তিক। সময় উত্তীর্ণের পর থাকার সুযোগ নেই। অথচ গত বছরের ৮ জুন মেয়াদ শেষেও আত্মসাতের অর্থ ফেরত দিয়ে স্বপদে বহাল ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীন

আইডিআরএর নির্দেশের পর স্বপদে বহাল থাকতে পারে না

—জাহাঙ্গীর আলম 
মুখপাত্র, আইডিআরএ

স্বদেশ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে মো. ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীনের মেয়াদোত্তীর্ণ হয় ২০২৩ সালের ৮ জুন। বিমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার পদটি চুক্তিভিত্তিক পদ, তাই মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর পূর্বপদে বহাল থাকার কোনো সুযোগ নেই। তবুও একই পদে তাকে পুনর্নিয়োগের জন্য ২০২৩ সালের ৫ মে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে আবেদন করে বিমা কোম্পানিটি। 

কিন্তু তার বিরুদ্ধের অনিয়ম-দুর্নীতি ও  প্রিমিয়ামের টাকা আত্মসাৎ এবং অবৈধভাবে ইনসেনটিভ বোনাস নিয়ে গ্রাহকের স্বার্থহানিসহ বিমা আইন লঙ্গনের অভিযোগে ২০২৩ সালের ৩ আগস্ট বিমা আইন অনুযায়ী (২০১০ এর ৫০ ধারার ১ (খ) উপ-ধারা) তাকে স্বদেশ ইসলামী লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কাজ না করা এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কোম্পানির ব্যবস্থাপনার কোনো কাজে সম্পৃক্ত না থাকার নির্দেশনা দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ।  অথচ আইডিআরএর সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েই মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরেই একই পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীন। 

এদিকে আইডিআরএর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য স্বদেশ ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান ২০২৩ সালের ২৪ আগস্ট আরো একটি আবেদন দাখিল করেন। ওই আবেদনও নামঞ্জুর করে আইডিআরএ; বরং ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই গৃহীত আইডিআরএর সিদ্ধান্ত ছিল—ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীনের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে পলিসিহোল্ডারদের জমাকৃত প্রিমিয়াম ও কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে গৃহীত ইনসেনটিভ বোনাস কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে জমা করার নির্দেশনা দিতে হবে। যা একই বছরের ২২ অক্টোবর একটি পত্রের মাধ্যমে বিমা কোম্পানিকে জানিয়েও দেয় আইডিআরএ। এর আট দিন পরই ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীন ২৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে জমা করেন। যা চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি আইডিআরএকে অবহিত করে বিমা কোম্পানীটি।

পরবর্তীতে ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীন এ সংক্রান্তে সার্বিক অফিস আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। যার নং ৩৪৪৭/২০২৪। গত ২১ মার্চ ওই রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে ছয় মাসের স্থগিতাদেশ দেন হাইকোর্ট। যেহেতু হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের আগেই ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীনের মেয়াদ শেষ হয় এবং কোম্পানির ৪৪তম বোর্ডসভার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মো. জাহাঙ্গীর আলম মোল্লাকে নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে নিয়োগও দেয়া হয়। সেহেতু আইডিআরএরের আদেশ হাইকোর্ট কর্তৃক স্থগিত করার পর ইখতিয়ার উদ্দীন শাহীনকে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব প্রদান ও তার দায়িত্ব পালন আইনসঙ্গত নয়। যে কারণে গত ৩ এপ্রিল কোম্পানিটির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে দায়িত্ব পালন করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয় আইডিআরএ। নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএর সর্বশেষ এই সিদ্ধান্তকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্বপদে বহাল তবিয়তেই রয়েছেন তিনি। 

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর মুখপাত্র মো. জাহাঙ্গীর আলম আমার সংবাদকে জানান, আমরা তাকে অপসারণের জন্যই নির্দেশ দিয়েছি এরপরও সে স্বপদে বহাল থাকতে পারে না।
 

Link copied!