community-bank-bangladesh
Amar Sangbad
ঢাকা সোমবার, ১৭ জুন, ২০২৪,

বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি

প্রতিরোধে কমিটি আছে কার্যক্রম নেই

রাকিবুল ইসলাম

রাকিবুল ইসলাম

মে ২১, ২০২৪, ১১:৪২ পিএম


প্রতিরোধে কমিটি আছে কার্যক্রম নেই

লোকলজ্জায় অভিযোগ করেন না অধিকাংশ ভুক্তভোগী

অভিযোগ এলেই দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে

—অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক
সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

নিপীড়কদের বিরুদ্ধে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে জাগ্রত করতে হবে

—অধ্যাপক জেবউননেছা
সভাপতি, যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত অভিযোগ কমিটি, জাবি

দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্রমেই বাড়ছে যৌন নিপীড়নের ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি রূপ নিয়েছে মহামারির মতো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা গণমাধ্যমের কল্যাণে দু-একটি ঘটনা সামনে এলেও অধিকাংশই থেকে যাচ্ছে পর্দার আড়ালে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক সহিংসতা, রাজনৈতিক চাপ ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির ফলেই এমন নীরব মহামারি। এছাড়াও পারিবারিক চাপ, ভুক্তভোগীকে অপবাদের প্রথা ও প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতার ভয়েও ভুক্তভোগী অধিকাংশ ছাত্রী থাকছেন অভিযোগ বিমুখ। যদিও সব বিশ্ববিদ্যালয়েই রয়েছে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি। অভিযোগ পেলেও বেশিরভাগ ঘটনায় দায়িত্বশীলদের নিষ্ক্রিয় মানসিকতা এ নীরব মহামারিকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। অনুসন্ধান বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেও অভিযোগ জমা পড়ে কম। এখন পর্যন্ত যৌন নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনায় প্রতিরোধ কমিটির কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটিগুলো আসলে কতটা কার্যকর এবং কতটা শিক্ষার্থীবান্ধব এ প্রশ্ন সবার।

পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিবছরই দেশে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন নিপীড়নের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া অধিকাংশ ছাত্রীরা পারিবারিক চাপ, সামাজিক কটুক্তি, লজ্জা ও প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতার ভয়ে কোথাও কোনো অভিযোগ করেন না। যদিও সব বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি রয়েছে। অনুসন্ধান বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেও অভিযোগ জমা পড়ে কম। প্রশ্ন ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটিগুলো কতটা কার্যকর এবং কতটা শিক্ষার্থীবান্ধব— তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছে দৈনিক আমার সংবাদ।

তথ্য বলছে, গত বছর ২৪২ নারী শিক্ষার্থী যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবে এসব ঘটনায় অধিকাংশ অভিযুক্ত রাজনৈতিক ছত্রছায়াসহ নানা কায়দায় পার পেয়ে যায়। আবার পারিবারের কথা ভেবে এবং সামাজিক কটুক্তি ও লজ্জার কারণে ভুক্তভোগীদের ৯০ শতাংশ কোনো অভিযোগ করেন না।

উচ্চশিক্ষা লাভ করে জীবনের লক্ষ্য পূরণের স্বপ্ন নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় আসে। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে সহপাঠী বা শিক্ষকের দ্বারা নিপীড়নের শিকার হলে কী প্রতিকার? উচ্চ আদালতের নির্দেশনা আছে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেল থাকবে।

উচ্চ আদালতের আদেশ ও সরকারের নির্দেশনা থাকলেও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠন করা হয়নি। এছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেগুলোতেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয় না। তারওপর পাঁচ সদস্যের কমিটিতে নারীর সংখ্যাও কম বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে। এছাড়াও দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়েও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটির দৃশ্যমান অস্তিত্ব নেই। তারপরও কেউ অভিযোগ দিলে শিক্ষকদের অসহযোগিতার পাশাপাশি জুটে নানান হুমকি। আছে লোকলজ্জা ও সামাজিক চাপ এবং পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার শঙ্কা। তাই অনেকে মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে শিক্ষাজীবন শেষ করেন। আর কেউ কেউ অবন্তিকার মতো আত্মহননের পথ বেছে নেন। আর এভাবেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়ত যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে। এক্ষেত্রে বলা বাহুল্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটিগুলো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে।

এ বিষয়ে কথা হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি আমার সংবাদকে জানান, তার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা। একসময় তিনি নিজেই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিপীড়নের শিকার হন। কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে তিনি কাউকে কিছু বলেননি। সমাজ এবং পরিবারের কথা ভেবে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হতে পারেননি। তখন না পারছিলেন কিছু বলতে না পারছিলেন কিছু করতে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী অপরাজিতা (ছদ্মনাম) ক্ষোভ প্রকাশ করে আমার সংবাদকে বলেন, বিচার তো পেলেনই না, উল্টো ওই পুরুষ শিক্ষক দাপটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি বললেন, ‘এটা যে কী মানসিক ট্রমা, তা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ বুঝবে না। আমার বিচার চাওয়া কি অপরাধ ছিল? আমি আর কাউকে এমন সেলের (বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র) কাছে বিচার চাওয়ার পরামর্শ দেব না।’

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিচারহীনতার সংস্কৃতি, রাজনৈতিক প্রভাব, কোথায় বিচার পাওয়া যাবে সে সম্পর্কে প্রচারের ঘাটতি, শিক্ষকদের অসহযোগিতা, লোকলজ্জা, সামাজিক চাপ এবং পরিবার পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে পারে এমন ভয়ে অনেক ছাত্রী অভিযোগ না করে পড়ালেখা শেষ করার চেষ্টায় থাকেন। একই মনোভাব বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরও।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, ‘অভিযোগকারী নারীর দিকেই অনেক সময় আঙুল তোলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলে একটি অভিযোগ অনেক সময় ধরে আটকে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অপেক্ষা করেন, যেন মেয়েটি পড়াশোনা শেষ করে চলে যান। তারা মনে করেন, ছাত্রীর বিদায় মানেই যৌন হয়রানির মামলারও বিদায়।’

নিষ্ক্রিয় সেল, আইন করা জরুরি : ২০০৯ সালের ১৪ মে হাইকোর্ট শিক্ষাঙ্গন ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নীতিমালা করে দেন। সেখানে বলা হয়, যতদিন এ বিষয়ে উপযুক্ত আইন না হবে, ততদিন এ নীতিমালা অনুসরণ ও বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক। কিন্তু গত ১৫ বছরেও এ বিষয়ে কোনো আইন করা হয়নি। প্রচলিত আইনগুলোতেও যৌন হয়রানিকে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন নিপীড়নের শাস্তির বিষয়ে কোনো লিখিত বিধান নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘যৌন হয়রানি ব্যাধি’, বিপন্ন অভিযোগকারীর শিক্ষাজীবন : বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফাওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ আইন করার জন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কয়েকটি সংগঠন বেশ কয়েকবার বসেছি। এখন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেবে। যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ আইন এখন সময়ের দাবি। আমরা চাই, আইনটি চূড়ান্ত হোক এবং সংসদে দ্রুত পাস হোক।’
চাপা পড়ে অসংখ্য অভিযোগ : পাঁচটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অভিযোগ যাচাই করতে গিয়ে অভিযোগ চাপা দেয়ার নানা নজির পাওয়া গেছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী অভিযোগ করেছিলেন, নম্বর বাড়িয়ে দেয়ার কথা বলে অনৈতিক সম্পর্ক গড়তে চেয়েছিলেন শিক্ষক। তদন্তে শিক্ষককে অভিযুক্ত করে উপাচার্যের কাছে প্রতিবেদন দেয়া হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সভায় সেটি তুলতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। এরই মধ্যে সেই শিক্ষক বিদেশে চলে যান।

শাহজালালের আরেক ছাত্রী সেলে অভিযোগ করেছিলেন, শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই তিনি নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। পরিবার জানতে পারলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে পারে, সেই আশঙ্কায় কাউকে কিছু বলেননি। তাই শিক্ষাজীবন শেষে তিনি অভিযোগ করেন। এদিকে ছাত্রটিরও পড়াশোনা শেষ। ফলে সেলের সদস্যরা ছাত্রকে শুধু মৌখিকভাবে সতর্ক করেন।

শুধু তাই নয়, ২০২১ সালের আগস্টে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক তার পুরুষ সহকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। প্রথমে ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ নীতিমালার দুটি ধারা উল্লেখ করে সেল জানায়, শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। অথচ নীতিমালাটি পড়লে দেখা যায়, দুটি ধারা ছাড়াও অভিযোগের শাস্তি নিশ্চিত করার বেশ কয়েকটি ধারা-উপধারা রয়েছে।

এদিকে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সেলের আহ্বায়ক ছিলেন অধ্যাপক মাহবুবা কানিজ। ওই সময়ের দুটি ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক কামরুল হাসান মজুমদারের বিরুদ্ধে। তিনি প্রভাব খাটিয়ে অভিযোগ ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। ৯ মাসের চেষ্টায় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়। অধ্যাপক আবদুস সালামের বিরুদ্ধে শিক্ষাসফরে এক ছাত্রীকে নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। তবে সেলের প্রতিবেদন নিয়ে সিন্ডিকেট অহেতুক দেরি করে। ওই সময়ের মধ্যে অধ্যাপক সালাম আগাম অবসরের প্রক্রিয়া শেষ করে ফেলেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩৪টি অভিযোগ এসেছে। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মাঝামাঝি তিনটি অভিযোগের প্রতিবেদন সেল জমা দিলেও সিন্ডিকেটে তোলা হয়নি। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মেয়াদে সেলের ছয়টি অভিযোগের প্রতিবেদন সিন্ডিকেটে ওঠেনি।

কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের কী হাল : ২০১০ সালের ১০ মার্চ হাইকোর্টের নির্দেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত অভিযোগ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩০টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ১৩টি অভিযোগ ২০২২ সালের পর এসেছে এবং তার ১১টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বাকি দুটি অভিযোগ বা ২০২২ সালের আগের অভিযোগ বিষয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১০ থেকে এখন পর্যন্ত ৩৪টি অভিযোগ করা হয়েছে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ সেলে। এর মধ্যে যৌন হয়রানি এবং নিপীড়ন নিরোধ সেল ২৮টি অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলে সূত্র জানায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য মতে, যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১২টি অভিযোগ আসে। এর মধ্যে ১০টি মীমাংসা করা হয়েছে আর বাকি দুটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে সেলের বর্তমান পরিচালক অধ্যাপক জিনাত হুদা জানান, তিনি দায়িত্ব পালন করছেন দেড়-দুই বছর ধরে। এই সময়ে চারটি অভিযোগ এসেছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮ সাল থেকে তথ্য পাওয়া যায়। সে অনুযায়ী মোট অভিযোগের সংখ্যা আটটি। তার মধ্যে বর্তমানে সিন্ডিকেটের অপেক্ষায় মানিক মুন্সী আর আবু শাহেদ ইমন রয়েছেন।

নিপীড়কদের ভয়, নিপীড়িতদের সাহস দিতে হবে : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক আমার সংবাদকে বলেন, ‘অভিযোগ এলেই দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। ভুক্তভোগীকে মানসিক শক্তি জোগাতে হবে। সেই অভিযোগ জমার পর একটি সময়সীমা বেঁধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট সবার সামনে প্রকাশ করতে হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত অভিযোগ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক জেবউননেছা বলেন, ‘এটা শুধু আমাদের এ কমিটিরই কাজ নয়, পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে জাগ্রত করা দরকার। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের এ সেলের বিষয়ে জানাতে হবে। তাহলে যারা নিপীড়ক, তারা ভয় পাবে। নিপীড়িতরা সাহস পাবে।’
 

Link copied!