তানজিদ সরওয়ার
জানুয়ারি ৪, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
এক নতুন ভোরের বাংলাদেশ। পরিবর্তনশীল সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ আজ এক নতুন যুগে পদার্পণ করেছে। ২০২৬ সালের এই নতুন ভোরে এদেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির মেলবন্ধনে পুলিশের ভূমিকা এখন অনন্য। একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল এবং নিরাপদ দেশ গঠনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, শান্তিতে নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দূরদর্শী নির্দেশে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ পুলিশ আজ জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর এক বাহিনীতে রূপান্তরিত হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের দৃশ্যমান পরিবর্তনের অন্যতম ধাপ হলো পোশাকের সংস্কার। দীর্ঘদিনের পুরানো পোশাক পরিবর্তন করে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক ও আরামদায়ক পোশাকের প্রবর্তন করা হয়েছে- যা পর্যায়ক্রমে সারাদেশের সব ইউনিটে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই নতুন পোশাক কেবল বাহ্যিক পরিবর্তন নয়, বরং এটি পুলিশ সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি এবং জনগণের সাথে একাত্ম হওয়ার একটি প্রতীক।
বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষ দেশ বা বিদেশে যেখানেই থাকুক না কেন, নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছেন ঘরে বসেই। পুলিশের ডিজিটাল বিপ্লবের ফলে এখন অনলাইনের মাধ্যমেই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা যাচ্ছে। এর ফলে থানায় না গিয়েও মানুষ আইনি সহায়তা পাচ্ছে, যা সময় ও অর্থের সাশ্রয় ঘটাচ্ছে।
বিশেষ করে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা যারা স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন, তাদের জন্য পুলিশের তদন্ত বা ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া এখন সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পেছনে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তার নিরলস প্রচেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধ হয়েছে।
ঢাকা মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিএমপি কমিশনার মো. সাজ্জাদ আলী অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। মহানগরীর প্রতিটি অলিগলি থেকে শুরু করে রাজপথ- সবখানেই জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি বিভিন্ন কৌশলগত অবলম্বন করেছেন। অপরাধ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিচ্ছে ডিএমপি।
ঢাকার যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। পরীক্ষামূলকভাবে পুরাতন ইন্টারকন্টিনেন্টাল (সাবেক শেরাটন) মোড় হতে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত অত্যাধুনিক ট্রাফিক বাতি বা সিগন্যাল লাইটের মাধ্যমে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
সমপ্রতি সরেজমিন চালক ও পথচারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই উন্নত প্রযুক্তির ফলে যাতায়াতের সময় নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে। একজন গাড়ি চালক বলেন, আগে যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হতো, এখন সেখানে কয়েক মিনিটেই গন্তব্যে পৌঁছানো যাচ্ছে। সচেতন মহলের দাবি, সমগ্র ঢাকা শহরে যদি এই স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক বাতি পদ্ধতি চালু হয়, তবে বছরে কোটি কোটি টাকার জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং দেশের মূল্যবান কর্মঘণ্টা বেঁচে যাবে।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এদেশের পুলিশ প্রশাসনকে এক বিশেষ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তার লক্ষ্য পুলিশ হবে একটি নিরপেক্ষ, সাহসী এবং মানবিক বাহিনী। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ প্রশাসনকে তিনি সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ও সহযোগিতা প্রদান করেছেন। সরকারের এই সদিচ্ছার কারণেই আজ মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা, ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কাজ করছে, দেশের জনগণ রাতে যখন ঘুমান তখন হাড় কাঁপানো শীতে জনগণের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য ডিউটি করেন পুলিশ বাহিনী। রোদপোড়া দুপুরে ট্রাফিক পুলিশের হাতের ইশারা যেমন সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষা করছে, তেমনি গভীর রাতে পুলিশের সাইরেন সাধারণ মানুষকে শান্তিতে ঘুমানোর নিশ্চয়তা দিচ্ছে। আইজিপি বাহারুল আলমের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে প্রতিটি পুলিশ সদস্য আজ মনে করেন ‘নিরাপত্তাই প্রথম’।
নিরাপত্তার শীর্ষে বাংলাদেশ পুলিশ এই স্লোগান আজ কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ নয়, বরং রাজপথে এর প্রতিফলন ঘটছে। আইজিপি বাহারুল আলম এবং ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাদ আলীর মতো দক্ষ অফিসারদের তদারকিতে বাংলাদেশ পুলিশ এখন সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক।
অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারমুখী পদক্ষেপে এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে ২০২৬ সাল হবে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি মাইলফলক। একটি দুর্নীতিমুক্ত, যানজটমুক্ত এবং নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে পুলিশ বাহিনী কাজ করছে, তাতে জনগণের পূর্ণ সহযোগিতা থাকলে আমরা বিশ্বের বুকে একটি উন্নত ও সুশৃঙ্খল জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবো।
পুলিশের আধুনিকায়ন মানে দেশের উন্নয়ন। আসুন, আমরা পুলিশের ডিজিটাল সেবাগুলো গ্রহণ করি এবং আইন মেনে পুলিশকে সহযোগিতা করি। মনে রাখবেন, সচেতন নাগরিক ও আধুনিক পুলিশ সুন্দর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।