ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

তাপদাহে হাঁসফাঁস জনজীবন

মো. নেয়ামত উল্যাহ

মো. নেয়ামত উল্যাহ

এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১২:২৮ এএম

তাপদাহে হাঁসফাঁস জনজীবন

বৈশাখের আকাশ যেন আজ আগুনের গোলক। দিগন্তজোড়া নীলাভ আকাশ থেকে ঝরছে তপ্ত অগ্নিধারা, আর সেই তাপে পুড়ছে তিলোত্তমা শহর থেকে শুরু করে নিভৃত পল্লী। গত কয়েক দিন ধরে চলা তীব্র ও অতি তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন এখন ওষ্ঠাগত। ভ্যাপসা গরম আর লু-হাওয়ার দাপটে প্রাণিকুল দিশেহারা; পিচঢালা পথ থেকে ওঠা আগুনের হলকা চোখে-মুখে বিঁধছে তীরের মতো। ঘরে স্বস্তি নেই, বাইরে বেরোলেই সূর্য যেন শুষে নিচ্ছে শরীরের শেষবিন্দু প্রাণশক্তি।

বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট এখন বর্ণনাতীত। মাথার ওপর প্রখর রোদ আর পায়ের নিচে তপ্ত জমিন নিয়ে রিকশাচালক, দিনমজুর ও নির্মাণশ্রমিকরা জীবনসংগ্রামে লিপ্ত, কিন্তু শরীরের ঘাম শুকানোর আগেই অবসাদে নুয়ে পড়ছে দেহ। নগরের মোড়ে মোড়ে তৃষ্ণার্ত মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে ডাব বা শরবতের দোকানে।

হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে পানিশূন্যতা ও হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসেও মিলছে না সহসা বৃষ্টির আভাস, বরং তাপমাত্রার পারদ প্রতিনিয়ত ভাঙছে পুরোনো রেকর্ড। এই অসহনীয় গরমে কর্মব্যস্ত শহর যেন এক তপ্ত মরুভূমি, যেখানে প্রতিটি নিশ্বাস এখন আগুনের হলকা। বৃষ্টির এক ফোঁটা শীতল পরশের জন্য চাতক পাখির মতো প্রতীক্ষায় আছে তৃষিত প্রকৃতি ও ক্লান্ত জনপদ।

তাপমাত্রার পারদ যখন আকাশচুম্বী : আবহাওয়া অফিসের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে ‘তীব্র তাপপ্রবাহে’ রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা, যশোর এবং পাবনা অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘর স্পর্শ করেছে। বাদ যায়নি রাজধানী ঢাকাও; এখানেও তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে, যা অনুভূত হচ্ছে আরও অনেক বেশি।

জনজীবনে নাভিশ্বাস, বিপাকে শ্রমজীবী মানুষ : তীব্র এই গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। রিকশাচালক, দিনমজুর এবং নির্মাণ শ্রমিকদের অবস্থা শোচনীয়। শ্রমিকদের হাহাকার: দুপুরের কড়া রোদে পিচঢালা রাস্তা থেকে যেন আগুনের হলকা বের হচ্ছে। অনেক রিকশাচালক অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। রাস্তার পাশে একটু ছায়ার খোঁজে ভিড় জমাচ্ছেন ক্লান্ত পথচারীরা। তৃষ্ণা মেটানোর চেষ্টা: মোড়ে মোড়ে আখের রস, লেবুর শরবত আর ডাবের দোকানে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। তবে চিকিৎসকরা রাস্তার খোলা শরবত পানে সতর্ক করেছেন।

হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি ও স্বাস্থ্য সতর্কতা : প্রচণ্ড গরমে রাজধানীসহ সারা দেশে বাড়ছে ডায়রিয়া, জ্বর ও পানিশূন্যতাজনিত রোগ। চিকিৎসকরা একে ‘মেডিকেল ইমারজেন্সি’ হিসেবে দেখছেন। হিট স্ট্রোক: বয়স্ক ও শিশুদের ক্ষেত্রে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হিট স্ট্রোকে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে (বেসরকারি সূত্রে)। চিকিৎসকদের পরামর্শ: অতি প্রয়োজন ছাড়া দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রোদে বের না হতে বলা হয়েছে। প্রচুর পানি, স্যালাইন এবং রসালো ফল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

কৃষিতে মরুর প্রভাব : তীব্র এই দাবদাহে ফসলের মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। বোরো ধানের আবাদ রক্ষায় সেচ দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা। রোদে আম ও লিচুর গুটি ঝরে পড়ছে, যা ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করেছে। অনেক জায়গায় পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় টিউবওয়েলে পানি উঠছে না, যা গ্রামীণ জনপদে সুপেয় পানির সংকট তীব্র করে তুলেছে। জমিকে চাষের আওতায় আনা। আগে পানির অভাবে যে জমিগুলো বছরের অধিকাংশ সময় পড়ে থাকতো, এখন সেখানে নিয়মিত ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, সৌর সেচ ব্যবস্থা আসার পর থেকে পানির প্রবাহে কোনো অনিশ্চয়তা নেই, ফলে ফসলের ফলনও আগের চেয়ে অনেক ভালো হচ্ছে।

পরিবেশবান্ধব ও টেকসই সমাধান : বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজেলচালিত পাম্প পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করে এবং এটি ব্যয়বহুল। অন্যদিকে, সৌর সেচ ব্যবস্থা পুরোপুরি পরিবেশবান্ধব। এটি কার্বন নিঃসরণ কমায় এবং দীর্ঘ মেয়াদে কৃষকের সঞ্চয় নিশ্চিত করে। পরশুরিয়া গ্রামের এই মডেল এখন পুরো পিরোজপুর জেলায় ছড়িয়ে দেয়ার দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।

জ্বালানি সংকটে বিকল্প শক্তির পথ : ২০২৬ সালের বর্তমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এই প্রকল্পটি একটি উদাহরণ। যখন ডিজেলের মূল্য লিটার প্রতি ১১৫ টাকা ছাড়িয়েছে এবং লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ বৈদ্যুতিক পাম্প চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে, তখন মঠবাড়িয়ার কৃষকরা সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পথ দেখাচ্ছেন।

সর্বোপরি, ‘যেখানে আলো, সেখানেই সম্ভাবনা’ এই মন্ত্রকে বুকে ধারণ করে মঠবাড়িয়ার পরশুারিয়া গ্রাম এখন কৃষি আধুনিকায়নের রোল মডেল। কৃষকদের মতে, যদি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে আরও বেশি সোলার প্যানেল স্থাপন করা যায়, তবে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতাও অনেক কমে আসবে। এখন শুধু পরশুারিয়া নয়, সারাদেশের কৃষকরাই এমন এক নিঃশব্দ ও সাশ্রয়ী কৃষি বিপ্লবের স্বপ্ন দেখছেন।

Link copied!