ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

ডিএমপির অল-আউট অজ্ঝাকশন

রুহেল হাশেমী

রুহেল হাশেমী

জুলাই ২১, ২০২৬, ১২:৩৬ এএম

ডিএমপির অল-আউট অজ্ঝাকশন

ঢাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মহানগরীকে পুরোপুরি অপরাধমুক্ত করার লক্ষ্যে এক নজিরবিহীন ও কঠোর সামরিক ধাঁচের প্রশাসনিক অবস্থান গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিপ্রভাব কিংবা সামাজিক অবস্থান- কোনো কিছুই যে অপরাধীদের পার পাওয়ার ঢাল হতে পারবে না, সে বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তার স্পষ্ট নির্দেশ, কোনো সন্ত্রাসী বা অপরাধীকে দল-মত নির্বিশেষে কোনো ধরনের ছাড় বা ‘স্যার’ সম্বোধন করা চলবে না।

ডিএমপির মূল পদে তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নেয়া নতুন রণকৌশল, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক তৎপরতা এবং আকস্মিক চিরুনি অভিযানের কারণে নগরীর তালিকাভুক্ত অপরাধী, ছিনতাই চক্র ও মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যদের মধ্যে প্রবল আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রথাগত পুলিশিংয়ের বাইরে গিয়ে তার নেয়া এসব অভিনব পদক্ষেপের ফলে ইতোমধ্যে শহরের সার্বিক নিরাপত্তা চিত্রে স্পষ্ট ও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর এমন অনমনীয় অবস্থানের ফলে ঢাকাকে পুরোপুরি অপরাধমুক্ত এক মহানগরীতে রূপান্তরের নতুন সম্ভাবনার সূচনা হয়েছে।

ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয়ে পরিচালিত নিয়মিত টহল ও বিশেষ যৌথ অভিযানের অংশ হিসেবে গত এক দিনে ঢাকা শহরের নানা প্রান্ত থেকে মোট ৪৭২ জন বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে মোট ৪৯টি পৃথক মামলা রুজু করা হয়।

ডিএমপির বিভাগভিত্তিক আটক ও ব্যবস্থার একটি সুনির্দিষ্ট তথ্যচিত্র উপস্থাপন করা হলো— ডিএমপি মিরপুর বিভাগ ১২৬ জন, তেজগাঁও বিভাগ ৬২ জন, ওয়ারী বিভাগ ৫৭ জন, মতিঝিল বিভাগ ৫৬ জন, উত্তরা বিভাগ ৪৭ জন, রমনা বিভাগ ৩৯ জন, গুলশান বিভাগ ৩৪ জন, লালবাগ বিভাগ ৩৩ জন ও গোয়েন্দা বিভাগ ৬ জন। মোট ৪৭২ জন। চলমান এসব অভিযানকালে ধৃত ব্যক্তিদের হেফাজত থেকেউদ্ধার করা হয়েছে ১২ হাজার ৮৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১২০ গ্রাম গাঁজা, ১০০ বোতল নিষিদ্ধ এস্কাফ সিরাপ এবং নগদ ৪,৮০০ টাকা। আটক হওয়া প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ডিএমপির সিটি অ্যাডমিন অ্যান্ড লজিস্টিকস শাখার একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রোববার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে রাজধানীর রমনা থানাধীন বেইলি রোড সংলগ্ন সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুলের আশপাশে ছদ্মবেশে অভিযান পরিচালনা করে। ঘটনাস্থলে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ওত পেতে থাকা অবস্থায় মো. হোসেন ইমন (১৯) নামের এক তরুণকে হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে রমনা থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়েছে। ডিএমপির বিভিন্ন ক্রাইম জোনে পরিচালিত বিশেষ অভিযানগুলোতে একাধিক পরোয়ানাভুক্ত ও পেশাদার অপরাধী জালে ধরা পড়েছে।

তুরাগ ও শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায় ২১ জনকে আটক করা হয়। গত রোববার দিনভর তুরাগ ও শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ নিজ নিজ এলাকার চিহ্নিত অপরাধপ্রবণ স্পটগুলোতে সমন্বিত চিরুনি অভিযান চালায়। তুরাগ থানার ১১ জন হলো- মো. আব্দুল সাত্তার (৪৫), মো. ইনছান আলী (৪২), আনছার আলী (৫০), আহাদ আলী (২৯), কামরুল ইসলাম (৩৫), মোফাজ্জল (৩৫), মো. আলমগীর (৩৫), লোকমান (৪৩), মো. রুবেল (৩৫), মো. জনি (১৯) এবং আইনি জটিলতায় থাকা এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর। শেরেবাংলা নগর থানায় ১০ জনকে আটক করা হয়।

তারা হলো- মো. জয়নাল (৪০), মো. শাহিন মিয়া (৩৫), মো. রবিউল আওয়াল ওরফে রবি (২৬), মো. সুজন সিকদার (২৮), মো. সাফিদ (২৬), মো. শামীম (২৯), মো. মিলন (২৯), নিজাম উদ্দিন ওরফে সেন্টু (৪০), মো. হাফিজুল ইসলাম (২৬) এবং মো. রায়হান ইসলাম (১৮)।

একই দিন যাত্রাবাড়ী থানা এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে পুরানো পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও নিয়মিত মামলার জঘন্য সব অপরাধের সাথে যুক্ত ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এই তালিকায় রয়েছে- মেহেদী হাসান (২৬), মো. নাজমুল (৩৮), তরিকুল ইসলাম মুন্না, মো. মাহিম (২৪), আহম্মেদ আলী তাশরীফ (২৯), মো. রাজীব (১৮), মো. সিমরান হোসেন (১৯), নাঈম সিকদার (২৩), মো. সাগর (১৯), রিনা আক্তার (২০), মো. আনোয়ার (৪৬), শাহরিয়ার সিফাত, মো. তন্ময় হোসেন (২৪), মো. সুজন মিয়া (২৭), নাজমুল করিম (৫০), মো. জাহাঙ্গীর (৪০), এসএম আলমগীর হোসেন (৪৮) এবং ইবায়দল্লাহ গাজী (৪৯)।

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদের প্রবর্তিত নতুন কৌশলগুলোর কারণে অপরাধ জগতে এক ধরনের আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ প্রশাসন এখন কেবল ঘটনার পর ব্যবস্থা গ্রহণ করার নীতিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং অপরাধ ঘটার আগেই তা নস্যাৎ করে দেয়ার আধুনিক ‘প্রি-এমপ্টিভ স্ট্রাইক’ নীতি অনুসরণ করছে।

ডিএমপির নতুন অপরাধ দমন কৌশলের মূল দিকসমূহ হলো- জিরো পলিটিক্যাল প্রিভিলেজ, অপরাধী কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় রয়েছে কি না, তা বিবেচনায় না নিয়ে কেবল অপরাধের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে সরাসরি আইনি পদক্ষেপ।

হটস্পট-ভিত্তিক আকস্মিক ব্লক রেইড, রাজধানীর ক্রাইম ম্যাপ বিশ্লেষণ করে চিহ্নিত অপরাধপ্রবণ এলাকায় কোনো আগাম বার্তা ছাড়াই ‘সারপ্রাইজ সার্কেল রেইড’ চালানো। সাদা পোশাকে বিশেষ নজরদারি, কিশোর গ্যাং, টানা পার্টি ও মলম পার্টির তৎপরতা রুখতে গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ড, ফ্লাইওভারের মুখ ও জনবহুল এলাকায় সিভিল ড্রেসে বিশেষ টিমের উপস্থিতি।

দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় সহায়তা, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের সঠিক আলামত ও তথ্যপ্রমাণসহ দ্রুততম সময়ে আদালতে সোপর্দ করে জামিন রোধের আইনি কৌশল। ডিএমপি কমিশনারের এই আপসহীন নীতি এবং থানার মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সর্বাত্মক সক্রিয়তার ফলে সাধারণ নগরবাসীর মনে নিরাপত্তার আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। মেট্রোপলিটন পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, রাজধানীর প্রতিটি অলিগলিকে নিরাপদ না করা পর্যন্ত এই সমন্বিত ও অল-আউট অ্যাকশন অব্যাগত থাকবে।

Link copied!