নিজস্ব প্রতিবেদক
মে ১১, ২০২৬, ১২:১৫ এএম
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ এর চূড়ান্ত ফলাফলের পর এবার নিয়োগ কার্যক্রমের শেষ ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর যোগদান নিশ্চিত করার আগে তাদের পূর্ব কার্যকলাপ (পুলিশ ভেরিফিকেশন) এবং জমা দেয়া সব কাগজপত্রের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)।
গতকাল রোববার দুপুরে অধিদপ্তরের পলিসি ও অপারেশন বিভাগের সহকারী পরিচালক (নিয়োগ) আইরিন পারভীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই আদেশ দেয়া হয়। এর মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি এখন চূড়ান্ত পূর্ণতা পেতে যাচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তির মূল বার্তা ও নির্দেশনা : প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ এর আওতায় যারা প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের নিয়োগযোগ্য শূন্য পদে পদায়নের আগে একটি নিবিড় যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
নির্দেশনার প্রধান দিকসমূহ- ১. পুলিশ ভেরিফিকেশন: নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর নামে কোনো নেতিবাচক রেকর্ড বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
২. নথি যাচাই: প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণপত্র, কোটা সংক্রান্ত সনদ (যদি থাকে) এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্রের সত্যতা সংশ্লিষ্ট বোর্ড বা প্রতিষ্ঠান থেকে যাচাই করা হবে।
৩. বিভাগীয় পদক্ষেপ: সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের এই যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করে অধিদপ্তরকে অবহিত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কঠোর অবস্থান : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যে কোনো ধরনের জালিয়াতি বা ভুল তথ্য রোধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। যদি কোনো প্রার্থীর দেয়া তথ্যে গরমিল পাওয়া যায় বা পুলিশি তদন্তে কোনো গুরুতর অপরাধের প্রমাণ মেলে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার নির্বাচন বাতিল করা হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের হাতেই জাতির ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব। তাই তাদের নৈতিক চরিত্র এবং যোগ্যতার বিষয়টি কোনোভাবেই আপসযোগ্য নয়। আমরা চাই স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেধাবীরাই ক্লাসরুমে পৌঁছাক।’
প্রার্থীদের জন্য পরবর্তী করণীয় : প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিজ নিজ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ভেরিফিকেশন ফরমে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী পুলিশ সদস্যরা প্রার্থীদের বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। এ সময় প্রার্থীদের সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নিয়োগের চূড়ান্ত গেজেট বা আদেশ জারির আগ পর্যন্ত কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা প্রলোভনে পা না দেয়ার জন্য সতর্ক করেছে অধিদপ্তর।
নিয়োগের প্রেক্ষাপট ও জনবল সংকট নিরসন : দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলা শিক্ষক সংকট দূর করতে এই ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষকের নিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকা এবং শিক্ষকস্বল্পতায় ধুঁকতে থাকা স্কুলগুলোতে এই নতুন শিক্ষকরা প্রাণসঞ্চার করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি কয়েক ধাপে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। রেকর্ড সংখ্যক পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছ পরীক্ষা পদ্ধতির কারণে এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়াটি শুরু থেকেই আলোচনায় ছিল।
সবকিছু ঠিক থাকলে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরপরই নির্বাচিত প্রার্থীদের যোগদান ও ওরিয়েন্টেশন শুরু হবে। এর মাধ্যমে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের মাঝামাঝি সময়েই স্কুলগুলোতে নতুন শিক্ষকদের পদচারণা শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে এই বিশাল জনবল নিয়োগ সরকারের একটি মাইলফলক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।