আমার সংবাদ ডেস্ক
ডিসেম্বর ১, ২০২৫, ১১:৪৩ পিএম
রাজধানীর দক্ষিণ জুরাইনের গ্যাস পাইপ এলাকার জব্বারের গলিতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন পাপ্পু শেখ (২৬) নামের এক যুবক। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, এলাকাবাসীও শুনেছেন ধারাবাহিক বেশ কয়েকটি গুলির শব্দ। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হলেও তাঁর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের বর্ণনা ও পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, সন্ধ্যার দিকে জব্বারের গলিতে পাপ্পুর ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় কয়েকজন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। গুলি লাগার পর ঘটনাস্থলেই পাপ্পু মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। আহত আরেক ব্যক্তিকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন, তবে তাঁর পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গোলাগুলির পর ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ঘটনা তদন্তে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে সম্ভাব্য তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে।
নিহত পাপ্পুর ছোট ভাই হৃদয় শেখ অভিযোগ করে বলেন, মাদক কারবারি বাপ্পা তার লোকজন দিয়ে আমার ভাইকে গুলি করিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাপ্পার সঙ্গে এলাকার নানা বিষয়ে বিরোধ চলছিল। তিনি আরও জানান, কয়েকবার বাপ্পার পক্ষ থেকে তাঁর ভাইকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে পাপ্পুকে টার্গেট করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
হৃদয়ের ভাষ্য—আমার ভাই কোনও অপরাধী ছিল না। সে পরিবার নিয়ে শান্তিতে থাকত। কিন্তু এলাকার অপরাধীচক্র তাকে হত্যা করল।
পরিবারের অভিযোগকে তদন্তের অংশ হিসেবে সামনে রেখে পুলিশ বিষয়টি যাচাই করছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) শ্যামপুর অঞ্চলের সহকারী কমিশনার মো. সরাফত উল্লাহ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তিনি বলেন, গুলির ঘটনায় একজন যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রমাণ সংগ্রহ করেছি। হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, তা শনাক্তে জোর তদন্ত চলছে। খুব দ্রুতই আমরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পারব।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং আশেপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এলাকার অপরাধচক্রের গতিবিধি নিয়েও তদন্ত করা হচ্ছে।
পাপ্পু শেখ মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার আমগ্রামের মন্টু শেখের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ রাজধানীর জুরাইন মিষ্টির দোকান গলির একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পাপ্পু পেশাগতভাবে ছোটখাটো ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এলাকায় তাঁর তেমন শত্রুতা ছিল না।
পারিবারিক সূত্র জানায়, পাপ্পুর সাম্প্রতিক সময়ে কারও সঙ্গে বড় কোনো বিরোধের কথা জানা না গেলেও কিছুদিন ধরে স্থানীয় একটি অপরাধীচক্রের সঙ্গে উত্তেজনা চলছিল।
গুলি লেগে গুরুতর আহত হওয়ার পর পাপ্পুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে গুলির ধরন, দূরত্বসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে, যা হত্যাকাণ্ডের দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
হত্যার ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়, পথচারীর সংখ্যা কমে যায়। স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আমরা কয়েকটি গুলির শব্দ শুনে ভয় পাই। পরে দেখি, একজন পড়ে আছে। এলাকায় কিছুদিন ধরে দুষ্কৃতীদের আনাগোনা বেড়েছে।
পুলিশ বলেছে, যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের কেউ এলাকায় পালিয়ে গেছে, কেউ আবার লুকিয়ে থাকতে পারে। সম্ভাব্য ঘাঁটিগুলোতে অভিযান চলছে। বাপ্পা নামের ব্যক্তির বিষয়ে পুলিশের ধারণা তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তাঁর বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ ছিল।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত বলেই মনে হচ্ছে। আমরা প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে জড়িতদের ধরার চেষ্টা করছি।
ইএইচ