বিশেষ প্রতিনিধি
জানুয়ারি ৪, ২০২৬, ০২:২১ পিএম
রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ১৮ বছর বয়সী সাকিবুল হাসান রানা হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফার্মগেট এলাকা।
রোববার সকাল থেকে শত শত শিক্ষার্থী কলেজের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে এসে ফার্মগেট মোড়ে অবস্থান নেন। শিক্ষার্থীদের এই আকস্মিক অবরোধের ফলে কাওরান বাজার, শাহবাগ, বিজয় সরণি এবং পান্থপথ অভিমুখী সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সাকিবের মৃত্যুর ২৪ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মূল আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
ঘটনার নেপথ্যে: মাদকের প্রতিবাদ বনাম রাজনৈতিক হামলা
নিহত সাকিবুল হাসান রানার সহপাঠীদের দাবি, সাকিব মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। গত ডিসেম্বরের শুরুতে মাদকের প্রতিবাদ করায় তাঁর ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। শিক্ষার্থীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, এই হামলার পেছনে স্থানীয় ছাত্রদলের একটি অংশ জড়িত ছিল।
গুরুতর আহত অবস্থায় সাকিবকে মগবাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে দীর্ঘ লড়াই শেষে গত ১০ ডিসেম্বর দুপুরের দিকে হাসপাতালের আইসিইউতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই তরুণ শিক্ষার্থী। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিক প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন।
প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ: উপদেষ্টাদের প্রতি আহ্বান
অবরোধকারী শিক্ষার্থীরা জানান, পুলিশ মামলা নিলেও আসামি গ্রেফতারে কোনো তৎপরতা দেখাচ্ছে না। আন্দোলনের সমন্বয়ক এক শিক্ষার্থী বলেন, "আমরা ২৪ দিন শান্ত থেকেছি, প্রশাসনের ওপর আস্থা রেখেছি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে পুলিশ খুনিদের বাঁচাতে সময় দিচ্ছে। আমরা এখন আর পুলিশের আশ্বাসে ঘরে ফিরব না। আমরা সরাসরি স্বরাষ্ট্র এবং আইন উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ চাই।"
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রধান দাবিগুলো হলো:
১। সাকিবুল রানার খুনিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দ্রুততম সময়ে বিচার নিশ্চিত করা।
২। মাদক ব্যবসায়ীদের মদতদাতা রাজনৈতিক নেতাদের আইনের আওতায় আনা।
৩। তেজগাঁও কলেজ এলাকার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
অবরুদ্ধ ফার্মগেট: জনভোগান্তি চরমে
সকাল ১০টার পর থেকেই ফার্মগেট মোড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। অফিসের সময় হওয়ায় কর্মজীবী মানুষ এবং স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীদের দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা যায়। শত শত বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি রাস্তায় আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও তারা বিচারের সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি বা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিশ্চয়তা ছাড়া রাস্তা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায়
শিক্ষার্থীরা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ছাত্রদলের ওপর দায় চাপালেও সংগঠনটির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তেজগাঁও কলেজ এলাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, তারা যেকোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের উর্ধ্বে গিয়ে সহপাঠী হত্যার বিচার চায়।
এএন