আমিনুল ইসলাম, সখীপুর (টাঙ্গাইল)
সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৫, ০২:১৯ পিএম
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই অ্যান্টিভেনম। অথচ প্রতি মাসে গড়ে ২৯ জন সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন সেখানে। গত ৯ মাসে (জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর) ২৬৮ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। অ্যান্টিভেনমের ঘাটতিতে সখীপুরের মানুষ এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন নিলুফা বেগম (৩০), সাদ্দাম হোসেন (২৩), কাজলী বেগম (৬০) ও শিশু সিয়াম হোসেন (১১)।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল জেলায় সাপে কাটা রোগীর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই সখীপুর উপজেলার বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সমতল ও পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় সখীপুরে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ সাপের দংশনের শিকার হন। ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত অ্যান্টিভেনম রাখার দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু বর্তমানে সেখানে অ্যান্টিভেনম মজুত নেই। প্রায় ১৫ দিন ধরে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক বুলবুল হাসান জানান, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে তার ভাগনে রাকিব (৩০) সাপে কাটা পড়েন। সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন না পেয়ে তারা সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি বলেন, সারা রাত উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় কেটেছে। আল্লাহর রহমতে রোগী সুস্থ হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেহানা পারভীন বলেন, সখীপুরে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা বেশি। কিন্তু বর্তমানে আমাদের কাছে অ্যান্টিভেনম নেই। আগে ডিজি হেলথ থেকে ভ্যাকসিন বরাদ্দ দেওয়া হলেও এখন তা বন্ধ রয়েছে। সারা দেশেই একই অবস্থা। একজন রোগীর জন্য প্রায় ১০ ভায়াল ভ্যাকসিন লাগে, যার খরচ ১৫ হাজার টাকা। হাসপাতালের পক্ষে এই ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
টাঙ্গাইল জেলা সিভিল সার্জন ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু বলেন, 'সরকারিভাবে অ্যান্টিভেনম বরাদ্দ বন্ধ। জরুরি পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন বা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।'
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল রনী জানান, ভ্যাকসিনের জন্য আমাদের কোনো বরাদ্দ নেই। তবে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা সভায় আলোচিত হয়েছে। হাসপাতাল চাইলে আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেব।
জেএইচআর