বরিশাল ব্যুরো
মার্চ ২৮, ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
বেশ কিছুদিন ধরে ধীরে ধীরে একে একে বরিশালজুড়ে প্রকাশ্যে আসছেন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা বিভিন্ন দিবসের কর্মসূচিও পালন করছেন। এরই অংশ হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যানারে এবার ঈদ উৎসব পালন করা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে শতাধিক নেতাকর্মী এ কর্মসূচি পালন করেন। এর আগে রমজান মাসে একাধিক ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দেড় বছর পর বরিশালে রমজান মাসে পৃথকভাবে একাধিক কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে তারা প্রকাশ্যে আসে।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার তাদের ঈদ উৎসব পালনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বরিশালজুড়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
ভিডিওতে দেখা যায়, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারী শতাধিক সাবেক ছাত্রলীগের নেতাকর্মী এ ঈদ উৎসবে অংশ নিয়ে সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।
ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নগরীর ত্রিশ গোডাউন এলাকায় নদীর তীরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ছবি দিয়ে ব্যানার টানিয়ে ভুরিভোজের আয়োজন করা হয়।
একাধিক সূত্রে জানা যায়, বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতাকর্মী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। তারা হলেন দপ্তরখানা এলাকার নিলয় আহমেদ রাব্বি, ভাটারখালের সুমন, আলমগীর হোসেনের ছেলে রুবেলসহ আরও কয়েকজন।
এছাড়া বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব খানের অনুসারীরা বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে নগরীতে পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করেন।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই, তবে খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে কয়েকজন নেতাকর্মী বাবুগঞ্জ উপজেলার কলেজ গেটস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন করেন।
একই সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি ব্যানার টানানো হয়। ব্যানারে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখা’ উল্লেখ ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় মুখে মাস্ক পরিহিত পাঁচ থেকে ছয়জন নেতাকর্মীর উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। তারা স্বল্প সময় অবস্থান করে কর্মসূচি শেষ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতা জানান, ভবিষ্যতে দলীয় সব কর্মকাণ্ডে বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন। তারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী দেশের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তেজিত জনতা কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করলে এটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। এরপর দীর্ঘ সময় কোনো ধরনের দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি।
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ এহতেশামুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন বা ব্যানার টানানোর কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। বর্তমানে ওই কার্যালয়ে কোনো পতাকা দেখা যায়নি এবং এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এটি পুরোনো কোনো ঘটনা হতে পারে।
এএন