আশরাফুল আলম, চুয়াডাঙ্গা
মে ৮, ২০২৬, ০২:৪০ পিএম
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন সত্ত্বেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। মাঠভরা পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম শ্রমিক সংকটে পড়েছেন তারা। টানা এক সপ্তাহের বৈরী আবহাওয়া এবং সব মাঠের ধান একসাথে পেকে যাওয়ায় শ্রমিকের চাহিদা এখন আকাশচুম্বী। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে, বর্তমানে এক মণ ধানের দাম দিয়েও একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি মিলছে না।
উপজেলার সীমান্তবর্তী কার্পাসডাঙ্গায় প্রতিদিন ভোরে শ্রমিকের হাট বসে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সেখানে শ্রমিকের চেয়ে কৃষকদের ভিড়ই বেশি। এক জন শ্রমিক পেতে কৃষকদের রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নামতে হচ্ছে।
বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ ধান ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দিতে হচ্ছে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। ফলে এক মণ ধান বিক্রি করেও একজন শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
কুতুবপুর গ্রামের কৃষক ইজামুদ্দিন জানান, দুই বিঘা জমির ধান কাটতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। অথচ উৎপাদিত ৪০-৪২ মণ ধানের বর্তমান বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ৪৪ হাজার টাকা। ফলে দুই বিঘা জমিতেই তার প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে গোলডাঙ্গা গ্রামের কৃষক রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, আগে যে শ্রমিকের মজুরি ছিল ৫০০ টাকা, এখন তা দ্বিগুণের বেশি। ধান কাটতে যে খরচ হচ্ছে, তাতে আমাদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে।
দামুড়হুদা উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ কুমার বিশ্বাস জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৮ হাজার ৭৬৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে এবং ফলনও বেশ ভালো।
তিনি বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সবাই একসাথে ধান কাটা শুরু করায় শ্রমিকের ওপর চাপ বেড়েছে। আমরা কৃষকদের দ্রুত ধান কাটতে বলছি এবং শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমাতে ‘কম্বাইন হারভেস্টার’ মেশিন ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছি। এতে অল্প সময়ে ও কম খরচে ফসল ঘরে তোলা সম্ভব।
প্রকৃতির প্রতিকূলতা আর আকাশছোঁয়া মজুরির মাঝে এখন সোনার ফসল ঘরে তোলাই দামুড়হুদার কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জেএইচআর