চাঁদপুর প্রতিনিধি
মে ১০, ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম
জোড়া তালি দিয়ে ৪৫ বছরের পুরোনো পাম্পে চলছে দেশের অন্যতম চাঁদপুরের দুটি সেচ প্রকল্প। এবছর দুটি প্রকল্পে বোরো আবাদ হয়েছে ১৬ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে। ইতোমধ্যে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ ধান কর্তন হয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দুটি সেচ প্রকল্পে ধানের ফলন ভালো হয়েছে জানালেন কৃষকরা। সেচ সমস্যা না থাকা এবং সঠিক সময়ে পানি পাওয়ায় কৃষকরা উপকৃত হয়েছেন জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। সীমাবদ্ধতার কথা জানালেন পাউবোর যান্ত্রিক বিভাগ।
সরেজমিন ঘুরে, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কৃষকদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
‘চাঁদপুর সেচ প্রকল্প’ ও ‘মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্প’ ধান ও রবিশস্য উৎপাদনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকরা ধান কর্তন, মাড়াই ও শুকানোর কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কৃষি অফিস থেকে জানা গেছে, চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের আওতাধীন সদর, ফরিদগঞ্জ ও হাইমচর উপজেলায় বোরো আবাদ হয়েছে ১০ হাজার ৮৬২ হেক্টর জমিতে। ইতোমধ্যে এসব জমির অর্ধেক ধান কর্তন হয়েছে। অপরদিকে মতলব উত্তর উপজেলায় মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে আবাদ হয়েছে ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে। এই প্রকল্পের প্রায় ২০ শতাংশ ধান কর্তন হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার দেইচর গ্রামের কৃষক আল-আমিন বলেন, তিনি এ বছর ৬০ শতাংশের দুটি জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। তার ধান কর্তন প্রায় শেষ। ফলন ভালো হয়েছে। একই গ্রামের কৃষক আবু তাহের বলেন, তিনি ৪০ শতাংশ জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। ১০ শতাংশ জমিতে পেয়েছেন ৮ মণ ধান।
মতলব উত্তর উপজেলার সেচ প্রকল্পের নয়াকান্দি এলাকার কৃষক আলী আজম বলেন, তিনি দুই কানি জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। অর্ধেক জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা হওয়ায় অনেকেই ধান কাটতে অতিরিক্ত শ্রমিক ও অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।
একই এলাকার কৃষক মোসলেম ও বাদল খান বলেন, এ বছর পানির সংকট ছিল না। ফলন ভালো হয়েছে। শেষ দিকে শিলাবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ফসলের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর সরকার বলেন, চাঁদপুর সেচ প্রকল্পে ধানের ফলন ভালো হওয়ায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। শুরুতে সেচ সংকট থাকলেও পরবর্তীতে সব কৃষক পানি পেয়েছে। ইতোমধ্যে ৫২ শতাংশ ধান কর্তন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে যথাসময়ে কৃষকরা ধান কর্তন করতে পারবে। এ বছর এই সেচ প্রকল্পে ১০ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে ৪৪ হাজার ১৫৮.২০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হবে।
মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, তুলনামূলকভাবে এ বছর কৃষকরা আগে পানি পেয়েছে। যার ফলে বোরো আবাদ হয়েছে ভালো। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বোরো আবাদ অর্জন বেশি। কৃষকরা নির্দিষ্ট সময়ে ধান লাগালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কম হবে।
দুটি সেচ প্রকল্পের পাম্পগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. রুহুল আমিন। তিনি বলেন, দুটি সেচ প্রকল্পের মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে পাম্প হাউস। এগুলো ৪৫ বছরের পুরোনো। মেরামত করে চালু রাখা হয়েছে। তারপরও কৃষকরা যাতে সঠিক সময়ে পানি পায়, সেই চেষ্টা আমাদের অব্যাহত ছিল এবং আগামীতেও থাকবে।
এএন