জিহাদ আল হাসান, শালিখা (মাগুরা)
মে ১৬, ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
সমাজের নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে সন্তানদের সুশিক্ষিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত করে গড়ে তোলার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘রত্নগর্ভা মা ২০২৫’ সম্মাননা পেয়েছেন মোট ৩৫ জন মা। এর মধ্যে ২৫ জনকে সাধারণ বিভাগে এবং ১০ জনকে বিশেষ বিভাগে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
শুক্রবার ১৫ মে রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী মিলনায়তনে এই সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৩ সাল থেকে আজাদ প্রোডাক্টস এই সম্মাননা প্রদান করে আসছে।
এ বছরের সাধারণ বিভাগে সম্মাননা পাওয়া একজন হলেন মিসেস রেহানা বেগম। তিনি একটি অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং বর্তমানে গৃহিণী হিসেবে জীবনযাপন করছেন। অল্প বয়সে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কাজী রুহুল আমিনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
নিজে প্রাথমিক শিক্ষার গণ্ডি সম্পূর্ণ করতে না পারলেও তিনি অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলেন।
তার বড় কন্যা রহিমা খাতুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে বর্তমানে নারীসেবা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছেন। আরেক কন্যা কামরুন্নাহার কাকলী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে যশোর জেলার চিংড়া ধর্মপুর আলিম মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
মা রেহানা বেগম শুধু কন্যাদেরই নয়, পুত্রদেরও উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। বড় ছেলে কাজী মেহেদুল ইসলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডে পাবনায় ম্যানেজার পদে কর্মরত আছেন।
দ্বিতীয় পুত্র ডা. কাজী রাজিবুল ইসলাম বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। পরে তিনি ঢাকার পিজি হাসপাতালে ডিএলও এবং বিসিপিএস থেকে এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।
কনিষ্ঠ সন্তান কাজী হিজবুল ইসলাম খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জৈব রসায়নে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে বর্তমানে এসিআই হেলথকেয়ার লিমিটেডে কোয়ালিটি ইনচার্জ ও এক্সিকিউটিভ ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন।
এই বিষয়ে দ্বিতীয় পুত্র ডা. কাজী রাজিবুল ইসলাম বলেন, তার মা নারী জাগরণের একজন অনুপ্রেরণা। তিনি বলেন, আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আমাদের মা। তাঁর এই সম্মাননা প্রাপ্তিতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্বিত। আমরা মায়ের যোগ্য সন্তান হিসেবে আজীবন মানুষের সেবায় কাজ করে যেতে চাই।
এম জি