মো. আলী হাসান, জয়পুরহাট
জুন ৬, ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার নিশ্চিন্তা এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের বিরুদ্ধে এক বাসের হেলপারকে মারধর ও চালককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে জয়পুরহাট প্রধান বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ক্ষুব্ধ পরিবহন শ্রমিকরা।
পরে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে দুপুর ২টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আজ শনিবার (৬ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্ষেতলাল উপজেলার নিশ্চিন্তা বাজার এলাকায় মারধরের এই ঘটনা ঘটে।
বাস সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে জয়পুরহাটগামী ‘শ্যামলী পরিবহন’-এর একটি বাস বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্ষেতলালের নিশ্চিন্তা এলাকায় পৌঁছালে বিজিবি সদস্যরা সেটিকে থামার সংকেত দেন। সামনে কিছুটা যানজট থাকায় বাসটি সংকেতের স্থান থেকে সামান্য সামনে এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিজিবির কয়েকজন সদস্য এসে বাসের হেলপার সাদ্দাম হোসেনকে মারধর করেন। এ সময় বাসের চালক তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও লাঞ্ছিত করা হয়।
পরবর্তীতে বাসটি জয়পুরহাট টার্মিনালে পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগীরা বিষয়টি শ্রমিক নেতাদের জানান। এরপর ক্ষুব্ধ পরিবহন শ্রমিকরা বাস ও বিভিন্ন যানবাহন আড়াআড়ি করে রেখে জয়পুরহাট প্রধান বাসস্ট্যান্ড এলাকার প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং তীব্র গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে তারা বিক্ষুব্ধ শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। প্রশাসনের আশ্বাসের ভিত্তিতে বেলা ২টার দিকে শ্রমিকরা ব্যানার সরিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এরপর ওই রুটে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আলোচনা ও সমঝোতার সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নূরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আরিফ হোসেন, জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম, জয়পুরহাট জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি গোলাম মর্তুজা শিপলু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক উম্মত আলী হিম্মতসহ অন্যান্য শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
এম জি