মিরাজ আহমেদ, মাগুরা
জুন ৭, ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
শৃঙ্খলাবোধ, পেশাদারিত্ব ও জনসেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বারোপ করে মাগুরা জেলা পুলিশের সাপ্তাহিক মাস্টার প্যারেড, মাসিক কল্যাণ সভা এবং মে মাসের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার সকালে মাগুরা পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা ও সদস্যরা অংশ নেন।
-20260607124304.jpg)
অনুষ্ঠানের শুরুতে মাস্টার প্যারেডে সালাম গ্রহণ ও প্যারেড পরিদর্শন করেন মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম-সেবা। এ সময় তিনি পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা, সততা, দায়িত্ববোধ ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনই পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক পুলিশিং নিশ্চিত করতে প্রত্যেক সদস্যকে দায়িত্বশীল ও পেশাদার আচরণ করতে হবে। ভালো কাজের স্বীকৃতি যেমন দেওয়া হবে, তেমনি দায়িত্ব পালনে জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা হবে।
প্যারেড শেষে পুলিশ লাইন্স ড্রিল শেডে মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পুলিশ সদস্যরা তাদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত সমস্যা, সুযোগ-সুবিধা এবং কর্মপরিবেশ সংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরেন। পুলিশ সুপার সেসব বিষয় মনোযোগ দিয়ে শুনে দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।
সভায় বক্তারা বলেন, নিয়মিত কল্যাণ সভা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, কর্মপরিবেশ উন্নয়ন এবং মনোবল বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
পরে মে ২০২৬ মাসে দায়িত্ব পালনে অসাধারণ অবদান রাখা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সফল অভিযান পরিচালনা, তথ্য সংগ্রহ, অপরাধ দমন, তদন্ত কার্যক্রম এবং পেশাগত দক্ষতার ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ সদস্যদের নির্বাচন করা হয়।
বিশেষ পুরস্কার পান ডিএসবির ডিআইও-১ পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহাদৎ হোসেন এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মুন্সী রাসেল হোসেন। শ্রেষ্ঠ উপপরিদর্শক (এসআই) নির্বাচিত হন নাকোল পুলিশ ক্যাম্পের এসআই মো. আব্দুল মালেক। শ্রেষ্ঠ উদ্ধারকারী কর্মকর্তা হিসেবে পুরস্কৃত হন সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের এসআই অজয় দাস। শ্রেষ্ঠ সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নির্বাচিত হন মাগুরা থানার এএসআই মোহাম্মদ এমাদুল হক। ফোর্স ক্যাটাগরিতে বিশেষ পুরস্কার পান মাগুরা পুলিশ লাইন্সের এএসআই (সশস্ত্র) মিরাজুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে অবসরে যাওয়া নায়েক মো. সিরাজুল ইসলাম ও নায়েক মো. কেরামত আলী, পিপিএমকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি বদলিজনিত কারণে বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান করা হয় পুলিশ পরিদর্শক (সশস্ত্র) মো. আমিনুর রশিদ, পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহাদৎ হোসেন এবং পুলিশ পরিদর্শক মুন্সী রাসেল হোসেনকে।
পুলিশ সুপার বলেন, পুলিশের চাকরি শুধু একটি পেশা নয়, এটি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এক মহান দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শাহ শিবলী সাদিক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) থান্দার খায়রুল হাসান, পিপিএম, সহকারী পুলিশ সুপার (শালিখা সার্কেল) নিশাত আল নাহিয়ানসহ জেলার বিভিন্ন থানার কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা মনে করছেন, নিয়মিত মাস্টার প্যারেড, কল্যাণ সভা এবং কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি প্রদান পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি করছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসেবামূলক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করছে।
এম জি