ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২৬

মাগুরায় সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা মেলেনি

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা

জুলাই ২, ২০২৬, ০৪:১২ পিএম

মাগুরায় সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা মেলেনি

মাগুরা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী শামসুজ্জামানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে। তবে অভিযোগকে কেন্দ্র করে কলেজে সৃষ্ট বিতর্কের নেপথ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার এবং স্বার্থসংঘাতের বিষয়টি সামনে এসেছে। অভিযোগকারী ও সমর্থক- দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে বিষয়টি এখন কলেজ অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

কলেজ-সংশ্লিষ্ট একাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রফেসর কাজী শামসুজ্জামান প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, একাডেমিক পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে অধিকতর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তার সমর্থকদের দাবি, এসব উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিনের কিছু প্রচলিত চর্চা ও অনিয়মে পরিবর্তন আসে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা প্রফেসর আব্দুস সাত্তারের সময়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম কলেজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটি ও আর্থিক-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করতেন।

কলেজটিতে কর্মরত প্রফেসর কাজী শামসুজ্জামান বলেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগের মাগুরা-১ আসনের এমপির ডিও লেটারের মাধ্যমে প্রফেসর আব্দুস সাত্তার কলেজটির অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার দাবি, ওই সময় কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, যিনি আওয়ামী লীগের শিক্ষক নেতা হিসেবে পরিচিত, কলেজের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করতেন এবং কলেজে ছাত্রলীগের ইউনিট চালুর ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখেন।

তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ক্রয় কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক এম. এম. সারওয়ার উদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়ায় কলেজের একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সঙ্গে তার মতবিরোধ তৈরি হয়।

অন্যদিকে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, তাদের উত্থাপিত অভিযোগ ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়; বরং কলেজ প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ ও উদ্বেগের বহিঃপ্রকাশ।

এদিকে অভিযোগের প্রেক্ষাপটে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের একটি তদন্ত দল কলেজে এসে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, অভিযোগের পক্ষে সুস্পষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল হান্নান মিয়া, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক উম্মে কুলসুম নাসরিন, সহকারী অধ্যাপক গোপাল রায়, প্রভাষক আজমুল ইসলাম এবং গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক লতা ইসলাম তাদের বক্তব্যে বলেন, প্রফেসর কাজী শামসুজ্জামান দীর্ঘ কর্মজীবনে একজন দায়িত্বশীল, সৎ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছেন। তাদের মতে, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বড় একটি অংশ অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও স্বার্থসংঘাতের ফল।

মাগুরা সরকারি মহিলা কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু সাঈদ মোল্লা বলেন, প্রফেসর কাজী শামসুজ্জামান দীর্ঘদিন এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তার কর্মনিষ্ঠা, অভিজ্ঞতা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়বদ্ধতা সম্পর্কে অনেকের ইতিবাচক মূল্যায়ন রয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে তিনি শৃঙ্খলা, নিয়ম-নীতি এবং একাডেমিক কার্যক্রমের প্রতি গুরুত্বারোপ করতেন।

এএন

Link copied!