আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জুলাই ৩, ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের মেগা ফাইনাল ম্যাচটি যেন শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের মানসিক চাপ ছাড়া উপভোগ করতে পারে, সেজন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা পিছিয়ে দিয়েছে।
আগামী ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ। এই উপলক্ষে ২০ ও ২১ জুলাইয়ের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির সব ধরনের পরীক্ষা স্থগিত করেছে ভারতের কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ‘সাউথ পয়েন্ট হাই স্কুল’। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন, অনলাইন গেম ও ডিজিটাল বিনোদনের জোয়ারে শিশু-কিশোরদের মাঠমুখী হওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। এমন এক উদ্বেগের মাঝেই ফুটবলের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও উদ্দীপনা বাড়াতে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
স্কুলের এক প্রাতিষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থগিত হওয়া ওই দুই দিনের সামেটিভ ইভালুয়েশন ও প্রি-মিডটার্ম টেস্ট নতুন সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ২০ জুলাইয়ের পরীক্ষাটি নেওয়া হবে ২৯ জুলাই এবং ২১ জুলাইয়ের পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হবে ৩০ জুলাই।
ব্যতিক্রমী এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে স্কুলের অধ্যক্ষ জয়দেব ঘোষ বলেন, তাঁরা চান শিক্ষার্থীরা ফুটবলের মতো দলগত খেলায় আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠুক। ফুটবল শুধু জয়-পরাজয়ের খেলা নয়; এটি একসঙ্গে পথ চলা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও দলগত মানসিকতা গড়ে তোলার দারুণ এক শিক্ষা দেয়। বর্তমানের ভার্চুয়াল দুনিয়ায় শিশুরা ক্রমেই একাকী হয়ে পড়ছে। ফুটবল তাদের একসঙ্গে কাজ করা ও সামাজিক বন্ধন গড়ে তোলার মূল্যবোধ শেখাতে পারে।
অধ্যক্ষ আরও জানান, ফাইনালের পরদিন পরীক্ষা থাকলে অনেক শিক্ষার্থী গভীর রাত পর্যন্ত জেগে খেলা দেখার সুযোগ পেত না। আবার অনেক অভিভাবকও পরীক্ষার কথা চিন্তা করে সন্তানদের খেলা দেখার অনুমতি দিতে অনীহা প্রকাশ করতেন। তাই শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বস্তি, আনন্দ এবং ফুটবল উন্মাদনার কথা বিবেচনায় নিয়েই পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের এই মানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্কুল কর্তৃপক্ষের এই সময়োপযোগী ও ক্রীড়াবান্ধব সিদ্ধান্তটি ইতিমধ্যেই স্থানীয় অভিভাবক মহল এবং ক্রীড়াপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব জীবনের বিনোদন ও খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরতে এবং শিক্ষার্থীদের মাঠমুখী করতে এটি একটি দারুণ ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
জেএইচআর