ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬

চাঁদপুরে সংস্কার শেষ না হতেই ধসে পড়ছে বাঁধের মাটি

এমরান হোসেন রাজন, চাঁদপুর

এমরান হোসেন রাজন, চাঁদপুর

জুলাই ২৭, ২০২৬, ০১:০০ পিএম

চাঁদপুরে সংস্কার শেষ না হতেই ধসে পড়ছে বাঁধের মাটি

নদীভাঙনের ঝুঁকি কমাতে চাঁদপুরের মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বাঁধের দুই পাশের সংস্কারকাজ চলছে। তবে কাজ শুরুর পর থেকেই এর মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ উঠেছে, বাইরে থেকে মাটি এনে ভরাট করার পরিবর্তে বাঁধের গোড়া থেকেই ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে মাটি কেটে ওপরের অংশে ফেলা হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সেই মাটি আবার নিচে ধসে পড়ছে এবং বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন শঙ্কা।

সরেজমিনে মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নের সুগন্ধি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সংস্কার করা বাঁধের দুই পাশের অনেক স্থানে মাটি ভেঙে নিচে পড়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও নতুন করে ফেলা মাটি বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, যেভাবে বাঁধের নিচের অংশ কেটে মাটি তোলা হচ্ছে, তাতে সংস্কারের পরিবর্তে বাঁধের ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বাসিন্দা বলেন, প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মাটি অন্য স্থান থেকে এনে ভরাট করার কথা। কিন্তু বাস্তবে বাঁধের নিচ থেকেই মাটি কেটে ওপরে ফেলা হচ্ছে। এতে কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে মাটি সরে যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, একই পদ্ধতিতে প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সংস্কারকাজ চলছে।

স্থানীয়দের আরও দাবি, সুগন্ধি এলাকা থেকে দক্ষিণে প্রায় এক কিলোমিটার অংশের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কিন্তু ওই অংশে সংস্কারের পর বাঁধ আগের চেয়ে আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া মূল ঠিকাদার কাজ না করে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কাজে নিয়োজিত তৃতীয় পক্ষের প্রতিনিধি মো. মাহবুব বলেন, আমরা যতটুকু মাটি কেটেছি, সে অনুযায়ী বিল দেওয়া হবে। তবে কাজটি নিয়ে আমরা বিপাকে আছি। ঠিকাদারের পক্ষে মিয়া মঞ্জুর আমিন স্বপন কাজ তদারকি করেন। এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলাই ভালো।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে মিয়া মঞ্জুর আমিন স্বপন মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের অধিকাংশ উন্নয়নকাজ স্থানীয়ভাবে সমন্বয় ও তদারকি করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ঠিকাদার সরাসরি কাজ না করে তাঁর মাধ্যমেই প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এ বিষয়ে জানতে ঘটনাস্থলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম মিয়ার কার্যালয়ে গেলে তিনি কাজের অগ্রগতি, মান কিংবা তদারকি-সংক্রান্ত কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি। এমনকি সর্বশেষ কবে তিনি কাজ পরিদর্শন করেছেন, সেটিও জানাতে পারেননি। পরে তিনি সাংবাদিকের অনুসন্ধানের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে কাজ তদারকিকারী মিয়া মঞ্জুর আমিন স্বপনকে অবহিত করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সব কর্মকর্তাকে স্বপন নিয়ন্ত্রণ করেন।

পরে মুঠোফোনে মিয়া মঞ্জুর আমিন স্বপন বলেন, বৃষ্টির কারণে কিছু জায়গায় মাটি নেমে গেছে। কাজ শেষ হওয়ার আগে সব ঠিক করে দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে যতবার মাটি সরে যাবে, ততবারই সংস্কার করা হবে। প্রকল্প-সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য তাঁর কাছ থেকে নেওয়ারও অনুরোধ জানান তিনি।

চাঁদপুর মেঘনা-ধনাগোদা পাউবো বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম শাহেদ বলেন, মাটি সরে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের জানা আছে। যেখানে ক্ষতি হবে, সেখানে আবার মাটি দিয়ে ঠিক করে দেওয়া হবে। শ্রমিকের পরিবর্তে ভেকু ব্যবহার করে কাজ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতে কোনো সমস্যা নেই।

এএন

Link copied!