মামুন সরকার, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল)
জুলাই ২৭, ২০২৬, ০২:১৯ পিএম
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় গত কয়েক মাস ধরে প্রতিনিয়তই রাতের আঁধারে চুরি হচ্ছে বৈদ্যুতিক তার। এতে করে চরম ভোগান্তি ও আতঙ্কে রয়েছেন উপজেলার বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না তার চুরির ঘটনা। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের।
এর মধ্যে ২৭ জুলাই রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার গোবিন্দাসী হাইস্কুল ও বাজার মসজিদের বৈদ্যুতিক লাইনের তার চুরি করে একটি চোর চক্র। এর ফলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ভোগান্তি পোহাতে হয় মুসল্লিদের। এর আগে গত দুই দিন আগে গোবিন্দাসী উচ্চ বিদ্যালয় থেকেও চুরি হয়ে যায় বৈদ্যুতিক তার। বিদ্যালয়টিতে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে বিদ্যুৎ সেবা। এছাড়াও বেশ কিছুদিন আগে রাউৎবাড়ি গ্রামের কোরবান আলী তালুকদার ও কষ্টাপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদ মণ্ডলের বাড়ি থেকে রাতের আঁধারে বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়ে যায়। এর ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের।
বিদ্যুৎ গ্রাহক কোরবান আলী তালুকদার বলেন, গত দুই মাস আগে আমার বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগের প্রায় দুই কয়েল তার চুরি হয়েছিল। এর ফলে আমার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ ছিল এবং আর্থিকভাবে অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। চোর চক্রদের ধরে শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
গোবিন্দাসী উচ্চ বিদ্যালয় ও বাজার মসজিদের ইমাম ও খতিব আলহাজ মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, মাঝেমধ্যেই আমাদের মসজিদ ও আশপাশের বাড়ি থেকে বিদ্যুৎ লাইনের তার চুরির ঘটনা ঘটে। গত রাতেও আমাদের মসজিদ ও হাইস্কুল থেকে তার চুরি হয়ে গেছে। এর ফলে আমরা অনেকটাই ভোগান্তি ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। চোর চক্রকে ধরতে এলাকাবাসীর পাশাপাশি প্রশাসনের আরও সোচ্চার হতে হবে।
ভূঞাপুর বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান বলেন, আমাদের লাইনম্যানরা প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ গ্রাহকদের তার চুরি রোধে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা গ্রাহকদের বলে দিয়েছি, রাতে ট্রান্সফরমার ও বিদ্যুৎ লাইনের আশপাশে কাউকে ঘোরাঘুরি করতে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের হটলাইনে ফোন দিলে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে নিয়ে ব্যবস্থা নেব। বৈদ্যুতিক তার চুরি বন্ধে গ্রাহকদের প্রধান ভূমিকা রাখতে হবে। গ্রাহক সচেতন হলে তার চুরির ঘটনা অনেকটাই হ্রাস পাবে।
এএন