দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
জুলাই ২৮, ২০২৬, ০১:০৮ পিএম
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া বিরল জোড়া লাগা (কনজয়েন্ড টুইনস) দুই কন্যাশিশুর চিকিৎসা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশু দুটিকে আলাদা করে স্বাভাবিক জীবন দেওয়া সম্ভব। তবে এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা ও ধারাবাহিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা। কিন্তু চরম আর্থিক সংকটের কারণে সেই চিকিৎসা শুরু করতেই পারছে না পরিবারটি।
গত ৪ মে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নাহিদ হাসান ও সানজিদা আক্তার দম্পতির ঘরে এই যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। তাদের নাম রাখা হয়েছে জয়নব ও উম্মে কুলসুম। জন্মের পর চিকিৎসকেরা তিন মাস পর পুনরায় শিশুদের ঢাকায় এনে পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উন্নত চিকিৎসা শুরু করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু অভাবের তাড়নায় নির্ধারিত সময় পার হতে চললেও এখনো শিশুদের ঢাকায় নেওয়া সম্ভব হয়নি।
শিশুদের বাবা নাহিদ হাসান জানান, একসময় তিনি ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করলেও বর্তমানে স্থানীয় একটি দোকানে কর্মচারীর কাজ করেন। মাসে তাঁর আয় মাত্র ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। এই সামান্য উপার্জনে যেখানে চারজনের সংসার চালানোই কঠিন, সেখানে দুই শিশুর বিশেষ যত্ন, দুধ ও চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে তিনি ঋণের জালে জর্জরিত হয়ে পড়েছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, চিকিৎসকেরা আশা দিয়েছেন যে আমার দুই মেয়েকে আলাদা করা সম্ভব। কিন্তু সেই বিশাল খরচ বহন করার সামর্থ্য আমার নেই। এখন তাদের জন্য দুধ কেনার টাকাই জোগাড় করতে পারছি না।
মা সানজিদা আক্তার বলেন, ওদের আলাদা করে কোলে নেওয়া যায় না। একজন নড়াচড়া করলে অন্যজনও কষ্ট পায়। নিয়মিত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়া দরকার, কিন্তু আমাদের সেই সামর্থ্য নেই।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত পরবর্তী চিকিৎসা শুরু করা দরকার। সঠিক সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে রাখলে সফল অস্ত্রোপচারের সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায়।
এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ জানান, উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরের মাধ্যমে পরিবারটিকে দ্রুত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরকারি অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে। প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুলও বিষয়টিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
দারিদ্র্যের কঠিন বাস্তবতার মাঝেও জয়নব ও উম্মে কুলসুমকে সুস্থ ও আলাদা দেখতে চান তাদের বাবা-মা। এই স্বপ্ন পূরণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক সংগঠনগুলোর আর্থিক সহায়তাই এখন পরিবারটির একমাত্র আশার আলো।
জেএইচআর