আমার সংবাদ ডেস্ক
জুলাই ২৮, ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ২৬টি টুথপেস্টে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’ বা প্লাস্টিকের অতি ক্ষুদ্র কণার উপস্থিতি পাওয়ার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই ঘটনা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নবগঠিত এই কমিটিকে আদালতে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন জনস্বার্থে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে এই বিষয়ে রিট পিটিশন দায়ের করেন। রিটকারী আইনজীবী জানান, প্রাথমিকভাবে তিনি এই ভয়াবহ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়েছেন। তদন্তে যদি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে ক্ষতিকর এই পণ্যগুলো বাজার থেকে পুরোপুরি প্রত্যাহারের আবেদন জানাবেন।
গত রোববার ঢাকার লালমাটিয়ায় পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার (এসডো) প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই উদ্বেগজনক গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। সংস্থাটি ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী এই সমন্বিত গবেষণা চালায়। গবেষণার সত্যতা নিশ্চিত করতে ল্যাবরেটরি পরীক্ষা, ভোক্তা জরিপ এবং বিজ্ঞানীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। ইতিপূর্বে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত হলেও বাংলাদেশে এমন মূল্যায়ন এবারই প্রথম। এই গবেষণা দেশের নিরাপদ টুথপেস্টের মানদণ্ড নির্ধারণ ও নীতিমালা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মানুষের সচেতনতা ও টুথপেস্ট ব্যবহারের অভ্যাস জানতে এই গবেষণার আওতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ২ হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর মাঠপর্যায়ে জরিপ চালানো হয়। এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ‘এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি’ ল্যাবরেটরিতে দেশের বাজারে থাকা ১৯টি নামী ব্র্যান্ডের মোট ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় আধুনিক ‘স্টিরিওমাইক্রোস্কোপি’ ও ‘ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপি’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
পরীক্ষা করা ৩৪টি নমুনার মধ্যে ২৬টি টুথপেস্টেই ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। বাকি ৮টি ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে কোনো প্লাস্টিক কণা পাওয়া যায়নি। ল্যাব রিপোর্টে দেখা গেছে, প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণা রয়েছে, যা নিয়মিত ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে।
জেএইচআর