গোলাম কিবরিয়া, নেত্রকোণা
জুলাই ২৮, ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম
তীব্র গরমের মধ্যে দিন ও রাতজুড়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে নেত্রকোণায় জনজীবন সম্পূর্ণ ওষ্ঠাগত হয়ে পড়েছে। বিদ্যুতের এই চরম সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা।
পৌরবাসী জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে অন্তত ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। কোনো কোনো এলাকায় লোডশেডিংয়ের সময়কাল দিনে ১৫ ঘণ্টাও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের অবস্থা আরও বেশি শোচনীয়। সেখানে একবার বিদ্যুৎ গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর দেখা মেলে না। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
একদিকে তিতাস গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ থাকায় রান্নাবান্না নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন পৌর বাসিন্দারা, অন্যদিকে বিদ্যুতের এই অসহনীয় ভেল্কিবাজি তাঁদের ভোগান্তি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার অফ-পিক আওয়ারে নেত্রকোণায় ২২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা ছিল। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ১৩ মেগাওয়াট, আর ৯ মেগাওয়াট ঘাটতির কারণে লোডশেডিং দিতে হয়েছে।
সরকারি হিসাবে চাহিদার তুলনায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণ যা দেখানো হচ্ছে, বাস্তবে পরিস্থিতি তার চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ বলে দাবি স্থানীয়দের। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি ঘাটতি থাকায় দিন ও রাতে সমানতালে লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যুতের এই ভয়াবহ সংকট ও গ্রাহক অসন্তোষের বিষয়ে জানতে নেত্রকোণা পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাদেকুল ইসলাম শাহীনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে দ্রুত কার্যালয় ত্যাগ করেন তিনি।
জেএইচআর