মো. সাইদ হাসান, গাংনী (মেহেরপুর)
জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
মেহেরপুরের গাংনীতে সাইকেল চুরির অপবাদ দিয়ে ভাতিজা নাহিদকে (২২) হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি চাচা লালনকে (২৬) আটক করেছে থানা পুলিশ। ঘটনার পর আত্মগোপনে থাকা লালনকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে মেহেরপুর সদর থানার আমঝুপি নীলকুঠি এলাকা থেকে তাকে আটক করে গাংনী থানা পুলিশের একটি দল।
নিহত নাহিদ হোসেন তেঁতুলবাড়ীয়া গ্রামের ভিটাপাড়ার জাহিদ হোসেনের ছেলে। অন্যদিকে গ্রেপ্তারকৃত লালন একই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (২৬ জুলাই) রাত ৯টার দিকে লালন হোসেনের বাড়ি থেকে একটি বাইসাইকেল চুরি হয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে লালন তার ভাতিজা নাহিদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়।
পরের দিন (২৭ জুলাই) আবারও বিষয়টি নিয়ে চাচা-ভাতিজার মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে লালন হাতে থাকা ধারালো হাসুয়া দিয়ে ভাতিজা নাহিদকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় প্রতিবেশীরা নাহিদকে উদ্ধার করে প্রথমে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে নাহিদ মারা যায়।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই আসামি আটকের অভিযানে নামে গাংনী থানা পুলিশ। দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাংনী থানা পুলিশের এসআই অমিত সাহার নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল সদর উপজেলার আমঝুপি নীলকুঠি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘাতক লালনকে আটক করে।
গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এএন