ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

এস এম মনিরুজ্জামানের হাত ধরে রেকর্ড কনটেইনার হ্যান্ডলিংসহ চট্টগ্রাম বন্দরের অভূতপূর্ব সাফল্য

নজিবউল্লাহ, চট্টগ্রাম

নজিবউল্লাহ, চট্টগ্রাম

সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৫, ০৫:৫০ পিএম

এস এম মনিরুজ্জামানের হাত ধরে রেকর্ড কনটেইনার হ্যান্ডলিংসহ চট্টগ্রাম বন্দরের অভূতপূর্ব সাফল্য

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মুনিরুজ্জামানকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়ার পর থেকে এক অভূতপূর্ব সুফলের পরিবর্তন দেখেছে। 

সম্প্রতি বন্দরের অভূতপূর্ব সাফল্যের মধ্যে রয়েছে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ কনটেইনার হ্যান্ডলিং (৩১ লাখ ৭১ হাজার ৭৭৯ টিইইউএস) যা একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

এছাড়া বন্দর রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে দেশের অর্থনীতির জন্য হৃৎপিণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

বন্দরের এই সাফল্যগুলি মূলত বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং নতুন কনটেইনার টার্মিনাল (নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল) নির্মাণ ও পরিচালনার ফলে সম্ভব হয়েছে বলে বিশ্লেষকের অভিমত। 

সাফল্যের দিক থেকে প্রথমত রেকর্ড কনটেইনার হ্যান্ডলিং এর কথা বলতে গেলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পোর্ট কর্তৃপক্ষ পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে, যা একটি নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এই পরিমাণে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বন্দরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বলে মনে করা হচ্ছে। 

দ্বিতীয়ত বন্দর রাজস্ব বৃদ্ধি, বন্দর রাজস্ব আয় ৮ দশমিক ২২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২২৭ দশমিক ৫৫ কোটি টাকায়, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। 

তৃতীয়ত অর্থনৈতিক গুরুত্ব এর কথা বলতে গেলে চট্টগ্রাম বন্দরকে দেশের অর্থনীতির "হৃৎপিণ্ড" হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যা দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের বড় অংশ পরিচালনা করে। 

চতুর্থত অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এর মতো অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে বন্দরের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সফলতার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

তবে এখানে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এনসিটি বিদেশিদের হাতে গেলে চট্টগ্রাম বন্দরের সুযোগ সুবিধার চেয়ে ঝুঁকির সম্ভাবনাই বেশি। বৈদেশিক মুদ্রা পাচার, স্থানীয় শ্রমিকদের স্বার্থহানি ও ক্রমবর্ধমান খরচ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

যদিও সেবার মান ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তারপরও দেশের অর্থনীতিতে ডলারের সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ ও জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার ভয় ও উদ্বেগের সম্ভাবনা খুব বেশি। 

বিপরীতে এর সম্ভাব্য সুবিধাও মনে করছেন বিশ্লেষকরা, দক্ষতা ও সেবার মান বৃদ্ধি পাবে বিদেশি অপারেটররা তাদের অভিজ্ঞতা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বন্দরের কার্যক্রমে দক্ষতা ও সেবার মান বাড়াতে পারে। 

বৃদ্ধি পাবে বিনিয়োগ, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বন্দরে বিনিয়োগ আসতে পারে, যা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে সাহায্য করবে। 

জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখবে, দক্ষ ও আধুনিক বন্দর অবকাঠামো দেশের পরিবহণ ব্যবস্থায় সহায়ক হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাব হিসেবে কাজ করতে পারে। 

অপরপক্ষে সম্ভাব্য ঝুঁকি যেভাবে হতে পারে, প্রথমত বৈদেশিক মুদ্রার সংকট দেখা দিতে পারে অর্থাৎ বৈধ চ্যানেলের বাইরে প্রচুর ডলার চলে যেতে পারে, যা বাংলাদেশকে ডলারের সংকটে ফেলবে। 

শ্রমিক স্বার্থের অবহেলা, বিদেশি অপারেটররা স্থানীয় শ্রম আইন ও নীতিমালার চেয়ে তাদের নিজস্ব নীতি অনুসরণ করতে পারে, যা স্থানীয় শ্রমিকদের জন্য বেতনের ক্ষেত্রে বা কর্মপরিবেশে বৈষম্য সৃষ্টি করতে পারে। 

সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত ভিন্নতা, বিদেশি কর্মীদের সঙ্গে কাজের ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত ভিন্নতা সমস্যা তৈরি করতে পারে। 

খরচ বৃদ্ধি, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বন্দর পরিচালনার কারণে ট্যারিফ বা খরচ বাড়তে পারে। 

সর্বশেষ জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন হতে পারে, দেশের প্রাকৃতিক ও লাভজনক বন্দর কোনোভাবেই বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়, কারণ এতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। 

ফলস্বরূপ চট্টগ্রাম বন্দরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানকে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার আগে এসব ঝুঁকি ও সুবিধাগুলো বিবেচনা করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

চট্টগ্রাম বন্দরের সংশ্লিষ্টদের অবদানের মধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষ তথা চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিকতার সাথে কাজ করার ফলে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ওঠে এসেছে। 

সাফল্যের কারণের কথা বলতে গেলে নতুন অবকাঠামো তথা বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বন্দরের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে যা ভবিষ্যতে রেকর্ড ব্রেক সাফল্য অর্জন করবে। 

দক্ষ জনবল, বন্দর চেয়ারম্যানের আন্তরিকতায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরলস প্রচেষ্টা এই রেকর্ড অর্জনে সাহায্য করেছে। কৌশলগত অবস্থান, চট্টগ্রাম বন্দর দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এটি প্রতিবেশী দেশগুলোর ভারত, নেপাল, ভুটানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে যা এর কর্মপরিধি বাড়িয়েছে। 

ব্যবসায়ীরা মনে করেন, এমন পরিস্থিতি সম্ভব হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগ ও চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান তথা কর্তৃপক্ষের নানামুখী গঠনমূলক পরিকল্পনার কারণেই। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সিন্ডিকেট ভেঙে চট্টগ্রাম বন্দরে নতুনভাবে গতি ফিরেছে। বন্দরের এমন সফলতা দেখে আরও বেশি বেশি বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন বিদেশিরা। এরই মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার নিরলস প্রচেষ্টাও বিদ্যমান। 

বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের ভাষ্যমতে, রাজনৈতিক প্রতিকূল অবস্থা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে এটিই তার বড় সাফল্য। 

চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে ব্যাপক কার্যক্রম শুরু হয়েছে প্রধান উপদেষ্টার দিকনির্দেশনায়, নৌপরিবহণ উপদেষ্টার নেতৃত্বে এবং নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সমন্বয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দেশের সমুদ্রপথে বহির্বাণিজ্য সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষ বদ্ধপরিকর। চট্টগ্রাম বন্দরকে জবাবদিহি, কল্যাণমূলক এবং অধিকতর ব্যবহারবান্ধব করার লক্ষ্যে সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, এরই পরিপ্রেক্ষিতে যে-সব ক্ষেত্রে সংস্কার প্রয়োজন সেগুলো করা হচ্ছে।

ইএইচ

Link copied!