সজিবুর রহমান, গোবিপ্রবি
আগস্ট ২২, ২০২৫, ০৩:১৯ পিএম
“অভয়াশ্রম গড়ে তুলি, দেশি মাছে দেশ ভরি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয়েছে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৫। দেশীয় মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও বিলুপ্তি রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স (এফএমবি) বিভাগ এ আয়োজন করে।
বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অতিথিদের অংশগ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিণত হয় উৎসবমুখর পরিবেশে।
দিনের শুরু হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে, যা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করার মাধ্যমে শেষ হয়।
পরে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, যেখানে বক্তারা মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি অনুষদের ডিন ড. জিলহাস আহম্মেদ জুয়েল এবং গোপালগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী।
আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার ড. মো. আরিফুল ইসলাম এবং বেসরকারি সংস্থা Christian Commission for Development in Bangladesh (CCDB)-এর প্রতিনিধি কৃষিবিদ মোঃ আব্দুল বারী। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এফএমবি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. নিয়াজ আল হাসান।
অনুষ্ঠানে ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগ ও CCDB-এর মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা CCDB-এর ইন্টার্নশিপ ও গবেষণা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে, যা শিক্ষার্থীদের পেশাগত বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. সোহেল হাসান বলেন, “আমাদের দেশের মানুষ পুষ্টি ও প্রোটিনের জন্য মাছের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাই জনকল্যাণের স্বার্থে মাছ নিয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।”
গোবিপ্রবি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখার প্রতিশ্রুতি থেকেই এফএমবি বিভাগের এই আয়োজন জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৫-এর এক উজ্জ্বল প্রতিফলন।
ইএইচ