শরীফুল ইসলাম, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৫, ০৬:০৭ পিএম
প্রতিষ্ঠার দুই দশক পর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়) প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (নাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২ দফা বৈঠকের পর খসড়া গঠনতন্ত্র প্রকাশ করেছে, যা শিক্ষার্থীদের মতামতের জন্য উন্মুক্ত।
রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গঠনতন্ত্রটি প্রকাশ করা হয়।
খসড়া গঠনতন্ত্রে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব, অধিকার রক্ষা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকাশ, নেতৃত্বের চর্চা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরির বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সংসদের নাম হবে “নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (নাকসু)”।
সংসদ দুটি ভাগে বিভক্ত থাকবে— কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদ। কেন্দ্রীয় সংসদে সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহ-সাধারণ সম্পাদকসহ ২১ জন কার্যনির্বাহী সদস্য থাকবেন। বিভিন্ন দায়িত্ব বণ্টন করা হবে মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা-গবেষণা, ক্রীড়া, সাহিত্য-সংস্কৃতি, তথ্যপ্রযুক্তি, আবাসন, পরিবহন, স্বাস্থ্য, সমাজকল্যাণ, প্রচার ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকদের মধ্যে। হল সংসদেও সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, স্বাস্থ্য, বিতর্ক ও প্রচার সম্পাদকদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে।
সংসদের সদস্য হবেন কেবল নিয়মিত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা। ইভনিং, উইকএন্ড, প্রফেশনাল প্রোগ্রাম, এমফিল ও পিএইচডি শিক্ষার্থীরা ভোটার হবেন না। প্রার্থী হওয়ার জন্য অন্তত এক বছরের শিক্ষাজীবন সম্পন্ন থাকতে হবে। শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে দণ্ডিত বা রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী প্রার্থী হতে পারবেন না।
ছাত্র সংসদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে— সভা আহ্বান ও পরিচালনা, কার্যবিবরণী সংরক্ষণ, প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকি, ক্রীড়া, সাহিত্য-সংস্কৃতি, প্রচার, তথ্যপ্রযুক্তি, সমাজসেবা ও গবেষণা কার্যক্রম। প্রতিটি অনুষদ ও বিভাগ থেকে একজন প্রতিনিধি সম্পাদক থাকবেন। ক্রীড়া সম্পাদক প্রতিযোগিতা আয়োজন করবেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা, ম্যাগাজিন, দেয়ালিকা ও বুলেটিন প্রকাশের দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রতি ১৫ দিনে সর্বজনীন সভা হবে, যেখানে সব শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারবেন। এছাড়া সংসদের সাধারণ সভা নিয়মিতভাবে সদস্যদের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচিত সংসদের মেয়াদকাল এক বছর। শীর্ষ পদ শূন্য হলে অন্য সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রত্যক্ষ ভোটে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে। মনোনয়ন যাচাই, ভোটগ্রহণ, ভোটগণনা ও ফলাফল ঘোষণা কমিশনের দায়িত্বে থাকবে। আর্থিক নীতিমালায় বাজেট প্রণয়ন, অনুমোদন ও নিরীক্ষার কথা উল্লেখ রয়েছে। অর্থ ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছ রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
খসড়া গঠনতন্ত্রে শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা সমাধানে ছাত্র সংসদের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথাও বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করতে এই খসড়া গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মতামত পর্যালোচনা শেষে গঠনতন্ত্র চূড়ান্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।
ইএইচ