ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬

নিয়োগে অনিয়ম: ১০ বছর ধরে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বাকীবিল্লাহ

শরীফুল ইসলাম, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

শরীফুল ইসলাম, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম

নিয়োগে অনিয়ম: ১০ বছর ধরে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বাকীবিল্লাহ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) ফোকলোর বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. বাকীবিল্লাহর (সাকার মুস্তাফা) নিয়োগকে ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। 

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞপ্তি না থাকা ও আবেদন তারিখে গরমিলসহ একাধিক অসংগতি পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিয়মবহির্ভূতভাবে বিজ্ঞপ্তি ছাড়া নিয়োগ পেয়ে ১০ বছর ধরে ফোকলোর বিভাগে শিক্ষকতা করছেন তিনি।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত নিয়োগপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৫ সালের ১৭ অক্টোবর তারিখে জমা দেওয়া একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং একই বছরের ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নিয়োগ বাছাই কমিটির সুপারিশে তাকে ফোকলোর বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে এই নিয়োগের আগে জাতীয় কোনো দৈনিক কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে সংশ্লিষ্ট পদের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। 

সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের বিধান থাকলেও, এ ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে ২০১৫ সালের ১২ মে প্রকাশিত একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ফোকলোর বিভাগের প্রভাষক পদে একটি পদের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। সেই বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে একজন প্রার্থীকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হলেও, মো. বাকীবিল্লাহর নিয়োগ সেই বিজ্ঞপ্তির আওতায় ছিল না বলে সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক মো. বাকীবিল্লাহ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার জানামতে এমন কোনো বিষয় হয়নি। যে প্রার্থীর সাথে নিয়োগ হয়েছে, তার সাথে আমার অনেক পার্থক্য আছে। নিয়োগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাই রেজিস্ট্রার বা সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলুন। আমাদের দুজনেরই একই সার্কুলারে নিয়োগ হয়েছে। একই সার্কুলারে একটি পদে দুজনকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সেটি তো আমি বলতে পারব না। আমাকে কোন পদে নিল আর তাকে কোন পদে নিল, তা বিশ্ববিদ্যালয় বলতে পারবে। এ ধরনের সার্কুলার হয় এবং এরপর নিয়োগ হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যে কোনো প্রার্থী যুক্ত থাকে না।

নিয়োগ বাছাই কমিটির সদস্য ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহবুব হোসেন ঘটনার সত্যতার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, অনেক আগের সার্কুলার ছিল। তখন কাগজপত্র দেখে আমরা সুপারিশ দিয়েছি। তবে নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি মূল সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি সভাপতির এখতিয়ারে পড়ে। এত বছর আগের হওয়ায় এখন সুস্পষ্টভাবে বলা কঠিন। 

নিয়োগ বাছাই কমিটির সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মহীত উল আলম বলেন, এই বিষয়গুলো আমার এখন মনে নেই। সিন্ডিকেট ও কাগজপত্র সব রেজিস্ট্রার অফিসে আছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, কোনো পদের জন্য ইউজিসির অনুমোদনের ভিত্তিতে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আমাদের নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করা হয়। এর বাইরে যদি কিছু ঘটে থাকে, তবে সেটি বৈধতার মধ্যে পড়ে না।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি পদের বিপরীতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বাধ্যতামূলক। 

ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান বলেন, এটা অসম্ভব ব্যাপার। সহযোগী অধ্যাপকের বিপরীতে প্রভাষক নিয়োগ দিতে হলেও দুইবার বিজ্ঞাপন দিতে হয়। দুইবার বিজ্ঞাপন দেওয়ার পরে যদি প্রার্থী না পাওয়া যায়, তখন নতুন করে প্রভাষকের বিজ্ঞাপন দিতে হবে। বিজ্ঞাপন না দিলে সেই নিয়োগ বৈধ হয় না। এ ছাড়া আবেদনপত্র জমাদানের তারিখ নিয়েও গরমিল পাওয়া গেছে। 

সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের শেষ সময় ২০১৫ সালের ১৫ জুন থাকলেও মো. বাকীবিল্লাহর নিয়োগপত্রে আবেদনের তারিখ উল্লেখ রয়েছে ১৭ অক্টোবর ২০১৫, যা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ইএইচ

Link copied!