Amar Sangbad
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৩, ১৫ চৈত্র ১৪২৯

মাহীকে নিয়ে জয়া‍‍’র পোস্ট

বিনোদন প্রতিবেদক

বিনোদন প্রতিবেদক

মার্চ ১৮, ২০২৩, ০৪:৩৩ পিএম


মাহীকে নিয়ে জয়া‍‍’র পোস্ট

চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৮ মার্চ) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মাহীর পাশে দাঁড়ালেন আরেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি পোস্ট দিলেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, অভিনেত্রী মাহিয়া মাহীকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রেপ্তার করা হয়েছে। মাত্রই খবরে পড়লাম, পুলিশ তাকে রিমান্ডে আনার আবেদন করলেও আদালত তা মঞ্জুর করেননি। মাহি জনপ্রিয় অভিনেত্রী, কিন্তু দেশের সব নাগরিকের মতো তিনিও আইনের অধীন। তবে এই কথাটা বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার, তিনি এখন মাসের নয় মাসের অন্তঃসত্তা। তাঁর অভিযোগের তদন্ত চলুক, কিন্তু একজন গর্ভধারিণী মায়ের এবং তার সন্তানের যেন কোনো ক্ষতি না হয়।রিমান্ড মঞ্জুর না করার জন্য বিজ্ঞ আদালতকে ধন্যবাদ জানাই। পুলিশের কর্মকর্তাদেরও অনুরোধ করব, মা আর অনাগত শিশুর যেন কোনো ক্ষতি না হয়, সে ব্যাপারে যেন সংবেদনশীল থাকবেন।

এদিকে রিমান্ড নামঞ্জুর করে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার (১৮ মার্চ) গ্রেপ্তারের পর মাহিকে গাজীপুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে (সিএমএম) পাঠানো হয়। সেখানে বিচারক মো. ইকবাল হোসেন মাহিকে গাজীপুর জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গাজীপুর মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আসাদুজ্জামান বলেন, মাহিয়া মাহিকে আদালতে নিয়ে সাত দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। তবে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর না করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে, শনিবার দুপুরে সৌদি আরব থেকে ফেরার পথে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় অভিনেত্রী মাহিয়া মাহিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে তাঁর স্বামী রাকিব সরকার পলাতক।

শুক্রবার (১৭ মার্চ) রাতে গাজীপুরের বাসন থানায় চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি ও তাঁর স্বামী রাকিব সরকারের বিরুদ্ধে দুটি মামলা রেকর্ড করা হয়। কোটি টাকার জমি দখল এবং জমিতে কাজ করতে গেলে বাধা প্রদান ও মারধরের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন স্থানীয় ইসমাইল হোসেন। এই মামলায় মাহি ও তাঁর স্বামী রাকিব সরকারসহ ২৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। অপর মামলাটি দায়ের করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বানোয়াট প্রচারণা চালিয়ে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়। এই মামলার বাদী বাসন থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) রোকন মিয়া। এই মামলায় মাহি ও তাঁর স্বামীকে আসামি করা হয়েছে।

এর আগে স্বামীর সঙ্গে ওমরাহ পালন করতে যাওয়া মাহি সৌদি আরবের মক্কা শহর থেকে শুক্রবার (১৭ মার্চ) ভোরে ফেসবুক লাইভে আসেন। লাইভে মাহিয়া মাহি অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামী ব্যবসায়ী-আওয়ামী লীগ নেতা রকিব সরকারের গাড়ির শোরুমে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ওই ফেসবুক লাইভে পুলিশের বিরুদ্ধে ‍‍`ঘুষ নিয়ে প্রতিপক্ষকে জমি দখল দেওয়ার চেষ্টা‍‍`রও অভিযোগ করেন তিনি। এদিকে ফেসবুক লাইভে মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মাহি ও তার স্বামী রকিব সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ।

শুক্রবার (১৭ মার্চ) রাতে গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) বাসন থানায় মামলাটি করা হয়। মামলায় প্রধান আসামি রকিব সরকার এবং দ্বিতীয় আসামি মাহিয়া মাহি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের হওয়া মামলায় চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিকে গ্রেপ্তার করা হলেও তার স্বামী রকিব সরকার এখনও দেশে ফেরেননি। ধারণা করা হচ্ছে গ্রেপ্তার এড়াতে মাহির স্বামী দেশে আসেননি। তবে তিনি কোথায় আছেন তা এখনও নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

এর আগে ফেসবুক লাইভে মাহিকে নিয়ে রকিব সরকার বলেন, গাজীপুর মহানগরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের পূর্ব পাশে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে ‘সনিরাজ কার প্যালেস’ নামে তার গাড়ির একটি শোরুম রয়েছে। স্থানীয় ইসমাইল হোসেন ও মামুন সরকার লোকজন নিয়ে শুক্রবার ভোর পাঁচটার দিকে হামলা চালিয়ে ওই শোরুমে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। হামলাকারীরা শোরুমের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন আসবাব, দরজা–জানালার কাচ, টেবিল–চেয়ার ভাঙচুর এবং শোরুমের সাইনবোর্ড খুলে নেয়। অফিস কক্ষ তছনছ করে এবং টাকাপয়সা লুট করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে রকিব সরকারের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

লাইভে রকিব সরকার অভিযোগ করেন, জিএমপি পুলিশ দেড় কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে ইসমাইলের পক্ষে জমি দখল করে দিতে চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘জমি ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে রকিব সরকার আমার কাছে এক কোটি টাকা দাবি করেছিলেন। যেখানে এক কোটি টাকা দিলে সমস্যা সমাধান হয়, সেখানে কেনো আমি পুলিশকে দেড় কোটি টাকা দেবো? পুলিশ আমার পক্ষে থাকলে আজ আমি কেনো মার খেলাম, কেনো আমি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে গিয়ে অভিযোগ দিলাম।’
 

Link copied!